kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

চাঁদপুরে ১০৩ টাকায় পুলিশে চাকরি!

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২৭ জুন, ২০১৯ ০০:১৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চাঁদপুরে ১০৩ টাকায় পুলিশে চাকরি!

ছবি: কালের কণ্ঠ

হাইমচরের মেয়ে ছালমা বেগম। বাবা দরিদ্র কৃষক। ৫ ভাইবোনের মধ্যে তিনিই সবার বড়। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ডিগ্রিতে পড়ছেন। কিন্তু অভাবের সংসারে দরিদ্র কৃষক বাবার পক্ষে মেয়ে ছালমাকে পড়ানো খুব কষ্ট হচ্ছিল। 
 
এর মধ্যে সংবাদ পেলো পুলিশে লোক নেবে। ছালমাকে কে জানি এমন তথ্য দিল। অদম্য ছালমা বাবা মায়ের পা ছুঁয়ে বাড়ি থেকে জেলা শহরে গিয়ে পুলিশে চাকরির আবেদনপত্র পূরণ করল। সঙ্গে ব্যাংক ড্রাফটের জন্য ১০৩ টাকা ব্যয় হল। সেই টাকা কিন্তু বাবা মায়ের দেওয়া নয়, নিকট এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ধার নিয়েছিলেন ছালমা বেগম। 
 
ব্যস্ ভাগ্য কপালে থাকলে ঠেকায় কে? মেঘনাপাড়ের এই ছালমা এখন পুলিশ সদস্য।  কোনো রকমের ঘুষ ও তদবির ছাড়াই সরকারি চাকরি। তাও আবার পুলিশে! হ্যাঁ মাত্র ১০৩ টাকায় ছালমা বেগমের মতো চাঁদপুরের শতাধিক যুবক-যুবতী পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি লাভ করেছেন।
 
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ লাইন্সে এসব যুবকদের চাকরি চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেন জেলা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির। এর আগে গত ২২ জুন থেকে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি প্রত্যাশী প্রায় ৩ হাজার ৭০০ যুবক সরাসরি আবেদন করেন। এতে তারা সর্বসাকুল্যে ব্যাংক ড্রাফট মিলে খরচ করেন মাত্র ১০৩ টাকা।
 
পরে তাদের মধ্যে থেকে ১২৩টি পদের বিপরিতে মাত্র ১১৫ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। বর্তমান পরিস্থিতিতে খুব সহজে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি লাভ করে বেশ আনন্দিত নির্বাচিতরা। 
 
এদিকে, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বলেন, সততা এবং ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে যুবকদের বাছাই করে চাকরি প্রদানে সহযোগিতা করতে পেরে তিনিও বেশ খুশি।
 
তিনি আরো বলেন, মন্ত্রী, এমপি এমনকি প্রভাবশালী কোনো রাজনৈতিক নেতাও তার কাছে চাকরির জন্য সুপারিশ করেননি। এই জন্য পুলিশ সুপার সবার কাছে কৃতজ্ঞতা জানান।
 
অন্যদিকে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, চাঁদপুরে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ বোর্ডে জেলা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির ছাড়াও অন্য দুই সদস্য ছিলেন, পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত এসব যুবক-যুবতীরা আগামী এক মাসের মধ্যে প্রশিক্ষণ দিতে দেশের পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে যোগে দেবেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা