kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন, অবশেষে মারা গেল তরুণী ফুলন

মনিরুজ্জামান, নরসিংদী   

২৬ জুন, ২০১৯ ১০:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন, অবশেষে মারা গেল তরুণী ফুলন

১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে মারা গেল ফুলন রানী বর্মন(২০)। আজ বুধবার সকাল ৬টায় ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। নিহতের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল গাফফার (পিপিএম, বার)।ৱ

ফুলন নরসিংদী পৌর এলাকার বীরপুর মহল্লার যোগেন্দ্র চন্দ্র বর্মণের মেয়ে। সে গত বছর নরসিংদী উদয়ন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে। 

নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন রাত পৌনে ৯টার দিকে বীরপুর বর্মণপাড়ায় নিজ বাড়ির পাশেই ফুলন রানী বর্মণের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় দৃর্বত্তরা। এ ঘটনায় ফুলনকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানায়, ফুলন বর্মণের শরীরের ১২ শতাংশ পুড়ে গেছে। এ ঘটনার পরদিন তাঁর বাবা যোগেন্দ্র চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব নিয়ে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আবদুল গাফফারকে। তিনি ফুলনদের জমি নিয়ে বিরোধ, প্রেমগঠিতসহ নানা দিক নিয়ে তদন্তে নামেন।

এ ঘটনায় এসআই আবদুল গাফফার ২০ জুন রাতে প্রথমে বীরপুর মহল্লার মৃত কেশব চন্দ্র সূত্রধরের ছেলে রাজু চন্দ্র সূত্রধরকে (২২) গ্রেপ্তার করেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকার ফনিন্দ্র বর্মণের ছেলে আনন্দ বর্মণ(২১) ও কিশোরগঞ্জের ডাংরি এলাকার নারায়ণ বর্মণের ছেলে ফুলনের ফুফাতো ভাই ভবতোষ বর্মণকে গ্রেপ্তার করে।

এরপরে গত ২১ জুন রাজু বর্মন ও ২২ জুন ভবতোষ বর্মণ ফুলনের শরীরে আগুন দেওয়ার ঘটনার সম্পৃক্ততা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক লিখিত জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে তারা জানায়, ফুলনের ফুফাতো ভাই ভবতোষের প্ররোচনায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাঁরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ভবতোষ তাঁর মামা যোগেন্দ্র বর্মণের জমি নিয়ে বিরোধের প্রতিপক্ষ পার্শ্ববর্তী শুকলাল ও হীরালালকে ফাঁসাতে এ অগ্নিকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজু ফুলনের মুখ চেপে ধরে আর আনন্দ শরীরে কেরোসিন ঢালে। আর ভবতোষ দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ফুলনের বাবা যোগেন্দ্র বর্মণ বলেন, আমার মেয়েকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আর আমি বুঝতে পারি নাই আমি দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পোষেছি। ভবতোষ যে এ ঘটনা ঘটাবে আমরা চিন্তাও করতে পারি নাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুল গাফফার বলেন, আজ বুধবার সকাল ৬টায় ঢাকা মেডিক্যালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফুলন বর্মণ মারা গেছে। বিষয়টি খুব বেদনাদায়ক। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমরা ফুলনের জবানবন্দি রেকর্ড করেছি। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা প্রকৃত মূল অপরাধী ফুলনের ফুফাতো ভাই ভবতোষসহ তাঁর দুই সহযোগীদের গ্রেপ্তার করেছি। এর মধ্যে রাজু ও ভবতোষ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। আশা করছি খুব অল্পসময়ের মধ্যেই অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারব।

তিনি আরো বলেন, মূলত ফুলন বর্মণকে হত্যা করে যোগেন্দ্র বর্মণের জমি নিয়ে বিরোধের প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে ভবতোষ বাড়িসহ জমি ভোগ দখলের চিন্তা থেকেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন থেকে হত্যা মামলায় স্থানান্তরিত করা হবে।

মন্তব্য