kalerkantho

শুক্রবার । ১৭ জানুয়ারি ২০২০। ৩ মাঘ ১৪২৬। ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাতের আঁধারে আপন দুই সন্তান রাস্তায় ফেলে আসে বৃদ্ধা মাকে

আড়াইহাজার থানার ওসির প্রশংসনীয় উদ্যোগ

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৬ জুন, ২০১৯ ০৩:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাতের আঁধারে আপন দুই সন্তান রাস্তায় ফেলে আসে বৃদ্ধা মাকে

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে রাতের আঁধারে আপন দুই সন্তান রাস্তায় ফেলে আসে তাদের বৃদ্ধা মা খোদেজা বেগমকে (৭৫)। নিজের গর্ভজাত দুই ছেলে হাছেন আলী ও জামান মিয়ার এই ‘কীর্তিতে’ এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ খোদেজার ‘গুণধর’ দুই ছেলেকে আটক করে। তবে এর আগে গতকাল মঙ্গলবার খোদেজা বেগমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। উপজেলার বিশ্বনন্দী ইউনিয়নের চৈতনকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 
 
উদ্ধার হওয়ার পর খোদেজা সাংবাদিকদের জানান, ১৯৭১ সালে তাঁর স্বামী মিল্লাত আলী দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে মারা যান। পরে পৈতৃক সূত্রে সন্তানরা জমির মালিক হয়। এ ছাড়া বৃদ্ধা খোদেজা তাঁর বাবার বাড়ির জমিসহ স্বামীর সূত্রে পাওয়া ২০ শতাংশ জমি চার বছর আগে সন্তানদের নামে লিখে দিয়েছিলেন। এর বিপরীতে সন্তানদের কাছ থেকে ভাত-কাপড় তো দূরের কথা মাথা গোঁজার ঠাঁইও হচ্ছিল না তাঁর। এমনকি ছেলেদের স্ত্রীরাও খোদেজাকে বিভিন্ন সময় মারধর করত বলে জানান তিনি। একপর্যায়ে গত ১০ জুন ছেলেরা তাঁকে রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে রাস্তায় ফেলে যায়। 
 
এর পর থেকে চৈতনকান্দা এলাকার একটি রাস্তায় তিনি পড়ে ছিলেন। একপর্যায়ে বৃদ্ধা তাঁর এক মামার বাড়িতে আশ্রয় নেন। হতদরিদ্র মামা ভিক্ষা করে চললেও তাঁকে ফিরিয়ে দেননি। বিষয়টি জানতে পেরে গতকাল আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল নিজের উদ্যোগে খোদেজাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় দুই ছেলে হাছেন আলী ও জামান মিয়াকে পুলিশ আটক করে। পরে ওসির উদ্যোগে দুই সন্তানের কাছ থেকে বৃদ্ধার জন্য ২ শতাংশ জমি মায়ের নামে লিখে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং মায়ের ভরণপোষণের জন্য মুচলেকা নিয়ে দুই ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বৃদ্ধা বলেন, ‘আমি ওসি সাহেবের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করব। তিনি যেন এভাবেই মানুষের সেবা করে যেতে পারেন। তাঁর কারণে আমি থাকার একটু জায়গা পাইলাম।’
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ পেয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গে ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করি। এ ছাড়া তাঁর দুই ছেলেকে থানায় নিয়ে আসি। আমি একজন অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি বৃদ্ধার থাকার একটু ব্যবস্থা করে দিতে পেরেছি। এ জন্য আল্লাহপাকের শুকরিয়া আদায় করছি। থানায় বসে পুরো বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।’ ওসি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে যদি ওই বৃদ্ধার দুই ছেলে তাদের মায়ের সাথে খারাপ আচরণ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা