kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

চাকরির প্রলোভনে টাকা হাতিয়ে নেওয়া রেলওয়ে কর্মচারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৬ জুন, ২০১৯ ০২:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাকরির প্রলোভনে টাকা হাতিয়ে নেওয়া রেলওয়ে কর্মচারী গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অলী উল্লাহ সুমন (৩২) নামে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। 
 
গ্রেপ্তারকৃত অলী উল্লাহ সুমন পূর্বাঞ্চল রেলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (সিসিএম) কার্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির সহকারী পরিদর্শক (এসিআই) পদে কর্মরত। তিনি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার মিশ্রিপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
 
দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং রেলওয়ের বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অলী উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয়।’
 
জানা যায়, ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি মডেল থানায় অলী উল্লাহ সুমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৬ সালে অলী উল্লাহর বন্ধু মিজানুর রহমান পূর্বাঞ্চল রেলে লেম্যান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আয়া, পোর্টার, ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস, কুরিয়ার ও ট্রেন নাম্বার টেকার পদে আবেদন করেন। প্রতিটি আবেদনে মিজানুর রহমানের যোগাযোগের ঠিকানা হিসেবে অলী উল্লাহর অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়।
 
২০১৬ সালের ২২ আগস্ট নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে মিজানুর রহমানের কাছ থেকে এসএ পরিবহনের (রিসিপ্ট নম্বর- ৪২৬৬২৭ ও ৪২৬৬৩৫) মাধ্যমে তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন সুমন। দুদক অনুসন্ধানে আরো জানতে পারেন, অলী উল্লাহ সোনালী ব্যাংক, চট্টগ্রামের সিআরবি শাখায় ২০১২ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এক কোটি ৩১ লাখ সাত হাজার ৪৮৭ টাকা এবং ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সাত লাখ ৩৪ হাজার ৪৮১ টাকা ৫০ পয়সা গ্রহণ করেছেন। এর নির্দিষ্ট উত্স নেই। উৎসবহির্ভূত এসব টাকা লেনদেনের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জে পাঁচ শতক জমি কেনার তথ্য অনুসন্ধানে পেয়েছে দুদক।
 
দুদক জানান, দণ্ডবিধির ১৬৩ ও ৪২০ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ধারায় অলী উল্লাহর বিরুদ্ধে এজাহারে অভিযোগ আনা হয়।
 
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সুমন ২০০৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর পূর্বাঞ্চল রেলের চিফ পারসোনাল অফিসারের কার্যালয়ে এমএলএসএস পদে যোগদান করেন। এদিকে গত বছর দুদকের মামলা দায়েরের পর সুমন সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন। পরে আবার চাকরিতে যোগদান করেন। তবে ১৫ দিন ধরে তিনি বিনা নোটিশে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা