kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

কউক আয়োজিত সেমিনারে লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ

নতুন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কউক’র ৫ থেকে ১০ বছর লাগবে

’ডায়াবেটিক হাসপাতাল, শিশু একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু পার্কের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সরানোর চিন্তা-ভাবনা উন্নয়নের অংশ হতে পারে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২৬ জুন, ২০১৯ ০১:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কউক’র ৫ থেকে ১০ বছর লাগবে

ছবি: কালের কণ্ঠ

বিশ্বের কোথাও শহরের মূল অংশে বিমানবন্দর নেই। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেই কক্সবাজার জেলার জন্য প্রণয়নাধীন মহাপরিকল্পনায় (মাস্টার প্ল্যান) বিমানবন্দর স্থানান্তরের বিষয়টি সংযুক্ত করতে হবে। দেশের প্রতিরক্ষার স্বার্থ বিবেচনা করেই এই স্থানান্তর প্রয়োজন। পাশাপাশি মাস্টার প্ল্যানে যাতে স্থানীয় মানুষের স্বার্থ পরিপন্থী কোনো বিষয় উল্লেখ না থাকে। সেদিকেও নজর দিতে হবে। এমনকি কক্সবাজার ডায়াবেটিক হাসপাতাল, শিশু একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু পার্কের মতো জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যন্ত উচ্ছেদের পাঁয়তারা চলছে। এসব জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সরানোর চিন্তা-ভাবনা কখনো উন্নয়নের অংশ হতে পারে না। 
 
গতকাল মঙ্গলবার সকালে ‘পর্যটন নগরী কক্সবাজারের মহাপরিকল্পনা ও উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বিষয়টি তুলে ধরেন। কউক সেবা সপ্তাহ ২০১৯ উপলক্ষে কক্সবাজার জেলার জন্য প্রণয়নাধীন নতুন মহাপরিকল্পনায় জেলার সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সেমিনারটির আয়োজন করেছিল কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। সকাল ১১টায় কউক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ। 
 
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কউক সদস্য (প্রকৌশল) লে. কর্নেল আনোয়ার উল ইসলাম। কউক সচিব (উপ-সচিব) আবু জাফর রাশেদ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এস এম সরওয়ার কামাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আদিবুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সোমেশ্বর চক্রবর্তী, মুক্তিযোদ্ধো কামাল হোসেন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা জাসদ সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল, কউক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী ও সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী জিন্নাত প্রমুখ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। 
 
সেমিনারে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (দক্ষিণ) মো. হুমায়ূন কবির, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুরুল আমিন, কউক সদস্য ডা. সাইফুদ্দিন ফরাজি, কউক সদস্য অ্যাড. প্রতিভা দাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 
 
সভাপতির বক্তব্যে লে. কর্নেল ফোরকান আহমদ বলেন, বর্তমান মহাপরিকল্পনাটি ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে প্রণীত। কউক গঠনের আগে প্রণয়নকৃত এই মহাপরিকল্পনা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাস্তবায়ন রীতিমতো অসম্ভব। বিষয়টি বিবেচনা করেই নতুন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এই মহাপরিকল্পনায় থাকা পুরো সীমানা নিয়ন্ত্রণে আনতে কউক’র ৫ থেকে ১০ বছর লাগবে। ধীরে ধীরে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি বাসযোগ্য কক্সবাজার উপহার পায়। 
 
কউক চেয়ারম্যান আরো বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য সরকারি-বেসরকারি সকল দপ্তর/সংস্থাসহ কক্সবাজারের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া আমাদের এই কক্সবাজারকে পরিবর্তন করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। তাই তিনি কক্সবাজারের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য সকলকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য উদাত্ত আহবান জানান।
 
সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান কর্তৃক পৌর এলাকায় ইমারত নির্মাণে পৌরসভার অনুমোদন গ্রহণে দেয়া চিঠির বিষয়ে কয়েকজন বক্তা জানতে চাইলে কউক চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি আইন এবং গেজেটে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। পৌরসভা এমন চিঠি দিতে পারে না। ইমারত নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা পৌরসভার নেই।
 
এ সময় কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার কউক চেয়ারম্যানকে সমর্থন করে বলেন, পৌরসভার ইমারত নির্মাণে অনুমতি দেয়ার কোন ক্ষমতা নেই। আমার সময়ে আমিও অনুমোদন দিয়েছিলাম। পৌরসভার তহবিল সমৃদ্ধ করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কেউ এই বিষয়ে মামলা করলে হয়তো ওই সময়ই পৌরসভাকে এই কাজ বন্ধ করতে হতো। 
 
এদিকে, গতকালের ওই সেমিনারে মহাপরিকল্পনা ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে শহরের চিত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচকরা ইতিপূর্বে কউক কর্তৃক পরিচালিত অভিযানকে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে সমর্থন জানান। পাশাপাশি লালদিঘীতে নির্মিত মসজিদের বিষয়ে কউক’র অবস্থান জানতে চান। প্রত্যুত্তরে কউক চেয়ারম্যান বলেন, লালদিঘীতে নির্মিত দুইটি মসজিদের মধ্যে একটি মসজিদ স্থানান্তর করবে না কউক। পশ্চিম পাশের মসজিদটিকে উত্তর পাশে স্থানান্তর করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা