kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগ নেতার যাবজ্জীবন

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি   

২৬ জুন, ২০১৯ ০১:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগ নেতার যাবজ্জীবন

সোনাগাজীতে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগ নেতা আবু বক্কর ছিদ্দিক সাগরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা জরিমানা, ছাত্রদল নেতা মেজবাহ উদ্দিন পিয়াসসহ ৪ জনের ১৪ বছর করে কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং ৫ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। 
 
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিচারক (জেলা জজ) মামুনুর রশিদ মঙ্গলবার বিকেলে এই রায় দেন। ১৪ বছর করে দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন, গাড়ি চালক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বায়জিদ ফয়সল ও ছাত্রদল কর্মী মো. রিয়াদ হোসেন প্রকাশ রিয়াদ। 
 
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- প্রধান আসামির মা বিবি কাউছার, তার ভাই মো. সুমন, অপর ভাই আবু নাছের সোহাগ, যুবলীগ নেতা আলা উদ্দিন আলো এবং মো. মাসুদ। 
 
বাদীর পরিবার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের চরলামছি গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা আবু বক্কর ছিদ্দিক সাগর সোনাগাজী মোহাম্মদ ছাবের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাবে স্কুলে যাওয়া-আসার সময় উত্যক্ত করত। তার প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ২০১৩ সালের ২৫ মে সকাল ৬টায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে সোনাগাজী শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড কলোনী সংলগ্ন চৌধুরী লেনের সামনে থেকে তাকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাস যোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
 
খাগড়াছড়ির পাহাড়ে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে রেখে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর সৌদি প্রবাসী বাবা বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত নামা ৩/৪ জনকে আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
 
সোনাগাজী মডেল থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক স্বপন কুমার বডুয়া তদন্ত শেষে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৩ সালের ২৫ জুলাই আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিচারক (জেলা জজ) মামুনুর রশিদ ১০ জন আসামির মধ্যে ৫ জনকে প্রধান আসামিসহ ৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা এবং অপর ৫ জনকে নির্দোষ হিসাবে খালাস প্রদান করেন।
 
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি আবু বক্কর ছিদ্দিক সাগর ২০১৮ সালে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক রয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর ৪ আসামি কারাগারে রয়েছে।
 
বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ইউছুফ আলমগীর। মামলার বাদী বেলায়েত হোসেন এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা