kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

মাদক কারবারিকে বাঁচাতে রিকশাচালককে ফাঁসানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২৫ জুন, ২০১৯ ১২:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাদক কারবারিকে বাঁচাতে রিকশাচালককে ফাঁসানোর অভিযোগ

অভিযুক্ত এসআই আব্দুর রহমান। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ এসআইয়ের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিকে ছেড়ে দিয়ে নিরীহ রিকশাচালককে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার পরিমাণ নিয়েও দেখা গেছে গরমিল। ঘটনার একদিন পর সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। 

অভিযুক্ত এসআইয়ের নাম আব্দুর রহমান। আর ছেড়ে দেওয়া মাদক কারবারি রাসেল দর্জি (৩৫) উপজেলার কাপাইশ গ্রামের মোন্তাজ উদ্দিন দর্জির ছেলে। 

জানা গেছে, গত ২০ জুন রাতে মাদক কারবারি রাসেল দর্জি ছৈলাদি গ্রাম থেকে ৫০ পিস ইয়াবা নিয়ে পোটান দক্ষিণ পাড়া গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আয়েছ আলীর ছেলে কাউছারের (২৭) রিকশায় করে ফিরছিলেন। পথে স্থানীয় চৌকিদার বোরহান শেখ মাদক কারবারি রাসেল ও রিকশাচালক কাউছারকে আটক করে। পরে রাসেলের সহযোগী ছৈলাদি গ্রামের সফুর উদ্দিন শেখের ছেলে তাইজুল ইসলাম, মৃত সামছু শেখের ছেলে বাদল শেখ ও মফিজ উদ্দিন ওরফে বুইড্ডা শেখের ছেলে জয়নাল শেখ চৌকিদারকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন ইয়াবা রেখে রাসেলকে ছাড়িয়ে নেয়। পরদিন তাজুল শেখের বিকাশ নম্বরে রাসেল চৌকিদারের জন্য টাকাও পাঠায়। ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয় জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাটি থানার ওসিকে জানান। ওসির নির্দেশে  কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান চৌকিদারকে সাথে নিয়ে শুক্রবার সকালে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি রাসেল ও রিকশাচালক কাউছারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। পরদিন সকাল পর্যন্ত তাদের হাজতে রাখা হয়। চৌকিদারের কাছে থানা ৫০ পিস ইয়াবার মধ্যে ৪৪ পিস জব্দ দেখিয়ে শনিবার সকালে এসআই রহমান বাদী হয়ে শুধু কাউছারকে আসামি করে মাদক মামলা করেন। 

রবিবার সকালে কাউছার ও রাসেলকে পুলিশের গাড়িতে তুলে গাজীপুর আদালতে নেওয়ার পথে কালীগঞ্জের কাপাসিয়া মোড়ে রাসেলকে ছেড়ে দিয়ে কাউছারকে আদালতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ কাউছারের পরিবারের। তাদের ধারণা- মোটা টাকার সুবিধা নিয়ে রাসেলকে ছেড়ে দিয়ে নিরীহ কাউছারকে মামলায় ফাঁসিয়েছেন এসআই আবদুর রহমান। রাসেল এলাকার বড় মাদক কারবারি। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হয়। 

স্থানীয়রা জানান, ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও বেশ কয়েকবার আটক বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় আগের চেয়ে আরো বেশি বেপরোয়া হয়েছেন তিনি। তা ছাড়া এ ঘটনায় চৌকিদার অনৈতিক সুবিধা নিয়ে রাসেল ও কাউছারকে ছেড়ে দিলেও মামলার আসামির পরিবর্তে তাকে বানানো হয়েছে স্বাক্ষী। রাসেলকে রবিবার বিকেলে এলাকায় দেখা গেছে। 

দরিদ্র রিকশাচালক কাউছারের বাবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আয়েছ আলী কেঁদে সাংবাদিকদের জানান, গবির বলে আমার ছেলেকে মাদকের মামলার আসামি হতে হলো। টাকা দিলে রাসেলের মতো সে-ও ছাড় পেত। এই বিচার কার কাছে দেব? আল্লাহই একমাত্র বিচারক তিনি সব কিছুর বিচার করবেন।

চৌকিদার বোরহান শেখের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটকের বিষয়টি স্বীকার করলেও আর্থিক সুবিধা নেয়ার কথা অস্বীকার করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন দিয়ে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।  

জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফারুক মাষ্টার জানান, ঘটনার পরে তিনি স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে চৌকিদার বোরহানের সংশ্লিষ্টতার কথা শুনে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করেন। কিন্তু পুলিশ এসে পরে যা করল তা দুঃখজনক। মাদক কারবারিকে ছেড়ে দিয়ে বহনকারীকে আসামি করে আদালাতে পাঠানো হলো।  দুজনকেই আসামি করলে প্রশ্ন উঠত না। 

অভিযুক্ত এসআই আব্দুর রহমান বলেন, দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও কাউছার স্বীকার করেছে ইয়াবাগুলো তার। রাসেলের সাথে ইয়াবা না পাওয়ায় ওসির পরামর্শে তাকে ৩৬ ধারায় চালান দেওয়া হয়েছে। ৫০ পিস ইয়াবার মধ্যে ৬ পিস ভেঙে যাওয়ায় মামলায় ৪৪ পিস উল্লেখ করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে রাসেলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। 

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুবকর মিয়া জানান, মাদক কারবারি রাসেলের বিষয়টি তার জানা নেই। কাউছারকে ইয়াবাসহ আটক করায় তাকে মামলা দিয়ে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার কালের কণ্ঠকে জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের সাথে কোনো আপস করা হবে না। তিনি যেই হোন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা