kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

সীতাকুণ্ডে এক মাসে দুই বার বিল গ্রাহককে!

• চিফ ইঞ্জিনিয়ার বললেন, ‘জুন মাসে বাড়তি কালেকশনের জন্যই এ ব্যবস্থা’
• বিল তৈরি করে রাখা হয় আগেই

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি    

২৫ জুন, ২০১৯ ০৩:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সীতাকুণ্ডে এক মাসে দুই বার বিল গ্রাহককে!

সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মধ্যম মহাদেবপুর বড়বাজার এলাকার ব্যবসায়ী প্রদীপ চৌধুরী ২০ জুন পিডিবির বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ করেছেন চার হাজার ৮০২ টাকা। গতকাল সোমবার ২৪ জুন তাঁকে আরেকটি বিদ্যুত্ বিল দিয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। এটির বিল পাঁচ হাজার ৩৬৩ টাকা। পরিশোধের শেষ তারিখ ৩০ জুন। যার অর্থ একই মাসে তাঁকে দুই বার বিদ্যুৎ বিল দিতে বাধ্য করছে পিডিবি। শুধু প্রদীপ চৌধুরী নন পিডিবি কর্তৃপক্ষের এমন তুঘলকি কাণ্ডের শিকার হয়েছেন সীতাকুণ্ডের হাজার হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক।
 
যোগাযোগ করা হলে এ প্রসঙ্গে পিডিবি আগ্রাবাদের চিফ ইঞ্জিনিয়ার প্রবীর কুমার সেন বলেন, ‘আসলে জুন মাসে আমরা একটু বাড়তি কালেকশনের চেষ্টা করি। গ্রাহকরা তাদের সুবিধামতো বিল দিতে পারবে।’ 
 
ভুক্তভোগী গ্রাহক প্রদীপ চৌধুরী বলেন, ‘সীতাকুণ্ড পৌর সদরের বড় বাজারে তাঁর বাড়িতে অনেক ভাড়াটিয়া আছে। সবার পৃথক পৃথক বিদ্যুৎ মিটার আছে। গত মাসে সবাইকে বেশি বেশি বিদ্যুত্ বিল দেওয়া হয়েছে। সেসব বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ২১ জুন। কিন্তু আমি ২০ জুন নিজের ৬৫০ ইউনিটের বিদ্যুৎ বিল চার হাজার ৮০২ টাকাসহ সব ভাড়াটিয়ার বিল পরিশোধ করেছি। আজ (সোমবার) আরেকটি বিদ্যুৎ বিল পেয়েছি। তাতে আমার মিটারে ৭০০ ইউনিট ব্যবহার দেখিয়ে বিল দেওয়া হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৬৩ টাকা। এই বিল পরিশোধের জন্য কম্পিউটারে ছাপানো শেষ তারিখ হলো ১৪ জুলাই। কিন্তু বিদ্যুতের স্থানীয় অফিস পাশে আরেকটি সিল দিয়ে নতুন করে শেষ তারিখ ৩০ জুন লিখে দেয় এবং এ সময়ের মধ্যেই বিল পরিশোধ করতে নির্দেশ দেয়।’ 
 
শুধু প্রদীপ চৌধুরী নয়, একইভাবে বিদ্যুত্ বিল নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন সীতাকুণ্ড পৌর সদরের আরেক বাসিন্দা অজিত নারায়ণ অধিকারী। তাঁর বিদ্যুৎ বিল এসেছে দুই হাজার ২৮৭ টাকা। পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ১৪ জুলাই। কিন্তু সিল দিয়ে পরিবর্তিত তারিখ করা হয়েছে ৩০ জুন। তার বিলও পরিশোধ করা হয়েছে কয়েক দিন আগে। অজিত নারায়ণ অধিকারীর ভাতিজা রাজু অধিকারীও একটি বাড়ির মালিক। তাঁরও অনেক ভাড়াটিয়া আছে। মাত্র কয়েক দিন আগে সবার বিল পরিশোধ করেছেন রাজু অধিকারী। কিন্তু সোমবার আবারও বিল আসে। ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধের জন্য বলা হয়। 
 
পিডিবির এমন হয়রানিতে বিরক্ত সীতাকুণ্ড ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন। তাঁদের অভিযোগ, শুধু যে মাসে দুই বার বিদ্যুত্ বিল দিয়েছে তা-ই নয়, পিডিবির জুন মাসের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সব গ্রাহক। সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন, ‘জুন মাসে আমার প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি মিটারে বিল এসেছে ৫০ হাজার টাকার মতো, যা অন্য সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি!’ 
 
এদিকে গ্রাহকদের এসব অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে পিডিবি বাড়বকুণ্ড অফিসের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আছাদুজ্জামান বলেন, ‘আসলে আমরা সব সময় বিল আগেই তৈরি করে রাখি। কিন্তু দেওয়ার সময় পরে দিই। সে কারণে অসুবিধা হয় না। 
 
এবার আমরা কিছু গ্রাহককে অগ্রিম বিল দিয়েছি। এতে গ্রাহকদের অসুবিধা হলেও তাদের জুলাই মাসে আর কোনো বিল দিতে হবে না।’ কেন এমনটা করা হলো আর জুন মাস শেষ না হওয়ার আরো এক সপ্তাহ আগেই ওই মাসের বিল কী করে দেওয়া হলো—এ প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনার বিলটি পরে (জুলাই মাসে) পরিশোধ করবেন অসুবিধা নেই। আর কোনো গ্রাহকের সামর্থ্য না থাকলে তারাও পরে দিক, অসুবিধা হবে না।’ কিন্তু এ বিষয়টি পত্রিকায় না লেখার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
 
পিডিবি আগ্রাবাদের চিফ ইঞ্জিনিয়ার প্রবীর কুমার সেন বলেন, ‘আসলে জুন মাসে আমরা একটু বাড়তি কালেকশনের চেষ্টা করি। এ জন্য এ বিলটি অগ্রিম প্রদান করা হয়েছে। যাঁরা পারবেন তাঁরা বিল দেবেন, যাঁদের দেওয়ার ক্ষমতা নেই তাঁরা পরের মাসেও দিতে পারেন।’ তিনি গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা