kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

আমাদের প্রিয় প্রীতিলতা হল : চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   

২৫ জুন, ২০১৯ ০১:৪০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমাদের প্রিয় প্রীতিলতা হল : চবি

হল প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রীদের একাংশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

পুরো নাম প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। সংক্ষেপে ডাকা হয় প্রীতিলতা। যিনি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও পূর্ববঙ্গে জন্ম নেওয়া প্রথম বিপ্লবী মহিলা। ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ করে ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জীবন বিসর্জন দেন।
 
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে রয়েছে এই বিপ্লবী নারীর পদচারণা। তাঁর নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ১৯৯৩ সালে ছাত্রীদের জন্য একটি আবাসিক হল প্রতিষ্ঠা করা হয়। যার নাম প্রীতিলতা হল।
 
গত ৫ মে ছিল প্রীতিলতার ১০৮তম জন্মদিন। হল সংশ্লিষ্টরা নানা আয়োজনে এ দিনটি পালন করে। এ ছাড়া নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবস পালন করে থাকেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, নারী দিবস, বিজয় দিবস ও পহেলা বৈশাখ অন্যতম।
 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ১২টি হলের মধ্যে মেয়েদের রয়েছে ৪টি হল। মেয়েদের ৪টির মধ্যে প্রীতিলতা হলে যাতায়াত সুবিধা ও প্রকৃতিকে উপভোগ করার সুবিধা বলা চলে একটু বেশি। এ জন্যই প্রীতিলতা হল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ছাত্রীদের প্রিয় হল।
 
এ ছাড়াও এ হল অনেকের প্রিয় শুধু হলের নাম প্রীতিলতা হওয়াতে। কারণ প্রীতিলতা নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশাল ইতিহাস।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রধান সড়কের পাশে হওয়াতে যাতায়াত করা সহজ। আর এ জন্যও শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে এ হল। ক্লাস, বাজার, কিংবা শহীদ মিনার ক্যাম্পাসের যেখানেই হোক না কেন যাওয়া যায় অতি সহজ। হলের সামনে রাস্তার  ওপরে পাহাড়ের পাদদেশে বসার জন্য রয়েছে ইটের তৈরি আসন।
 
হলের বাম পাশের রাস্তা ধরে মিনিট পাঁচেক হাটলেই বোটানিক্যাল গার্ডেন, ডান পাশে রাস্তা ধরে মিনিট দুয়েক হাটলে শহীদ মিনার। হলের উপরে দুতলায় রয়েছে বিশাল বারান্দা। যা অন্য হলে নেই। বিকাল ও সন্ধায় সিনিয়র জুনিয়র মিলে চলে হরদম আড্ডা। শীতকালে রৌদ পোহাতে ও গরমকালে রাতে বারান্দায় শিক্ষার্থীদের আনাগোনা আরো বেড়ে যায়। স্টাডি, মাঝে মাঝেই গান কবিতা আড্ডায় মেতে উঠে এ বারান্দা। এইতো বিশ্ববিদ্যালয় হল জীবন। সব  মিলিয়ে বেশ ভালোই আছেন বলছিলেন এই হলের ছাত্রীরা।
 
প্রীতিলতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সানজিদা স্বপ্লীল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে হল জীবন একটি আবেগের নাম। এখানে আসার পর সিনিয়র জুনিয়র, পলিটিক্যাল ও নন-পলিটিক্যাল সকলে মিলে যে বন্ডিংয়ে আছি তা সত্যি অসাধারণ। হলের প্রভোস্ট ম্যাম ও আবাসিক শিক্ষকরা আমাদের বিষয়ে শতভাগ আন্তরিক। হলে না থাকলে এ অপার অনুভূতিগুলো উপভোগ করা যায় না।'
 
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুততম মানবী ও প্রীতিলতা হলের শিক্ষার্থী মাহজবীন শুচি  বলেন, হলে থাকতে পারাটা একটা আনন্দের বিষয়। বাংলাদেশের অন্যতম এ বিদ্যাপীঠে ভর্তির সুযোগ পাওয়াটা যেমন একটা বড় পাওয়া। তেমনি ভর্তি হওয়ার পর হলে উঠতে পারাটাও একটা বড় পাওয়া বলা যায়। হলে না থাকলে একজন শিক্ষার্থী অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হয়। যে হলে থাকে না সে জানে না কি করে সবার সঙ্গে সহজে মেশা যায়। আমি মনে করি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে অথচ সুযোগ থাকার শর্তেও হলে থাকে না তার পড়াশুনার জীবন অপূর্ণতা বলা চলে।
 
কিছু শিক্ষার্থীর অভিযোগও আছে, তাদের ধারণা ছিল এতো বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছুই সেরা হবে। কিন্তু হলে উঠে প্রথমে মন ভেঙে যায়। কারণ এখানে আবাসন সংকট। নেই কোনো গণরুম। দেখা গেছে হলে মোট সিট আছে ৫৩১টি। অথচ এই সিটের বিপরীতে থাকছে এক হাজারের ওপরে ছাত্রী।
 
ফলে প্রতিটি রুম গণরুমের আকার ধারণ করেছে। ডাইনিংয়ের নিম্নমানের খাবার, রিডিং রুমে পর্যাপ্ত বই না, ক্রীড়া সামগ্রী সংকট থাকাসহ নানা সমস্যা বিদ্যমান। তবু সবকিছু মিলিয়ে ভালোই কাটছে বলে জানান তাদের হল জীবন।
 
প্রীতলতা হলের প্রভোস্ট পারভীন সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, হলের শিক্ষার্থীরা ও আমরা হল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে যারা আছি সব সময় চেষ্টা করি সকলের সম্বনয়ে বিশেষগুলো উৎসবমুখর ভাবে পালন করতে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে কিছু সমস্যা থাকে এটি অস্বীকার করার কিছু নেই। এগুলো পর্যাক্রমে সমাধান করা হচ্ছে। কারন বাজেটের ‌ওপর নির্ভর করে কাজগুলো করতে হয়।

মন্তব্য