kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

পাহাড়ি অঞ্চলের আতঙ্ক বনদস্যু আলা উদ্দিন গ্রেপ্তার

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৪ জুন, ২০১৯ ২২:০৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাহাড়ি অঞ্চলের আতঙ্ক বনদস্যু আলা উদ্দিন গ্রেপ্তার

ভয়ংকর বনদস্যু আলা উদ্দিন। পাহাড়ি অঞ্চলে এক সময়কার মূর্তিমান আতঙ্ক। বন ধ্বংস করাই যেন ছিল তার নেশা। প্রকাশ্যে সন্তোষপুর সরকারি বনের গাছ উজার করেছেন তিনি। বন কর্মকর্তারা দেখেও কিছু বলতে পারেননি। কারণ তার ছিল ‘পাহাড়ি বাহিনী’। বাহিনীর সদস্যসহ একের পর এক মামলা হয়েছে তার নামে। মামলায় জর্জরিত হয়ে এক সময় গ্রাম ছাড়েন বনদস্যু আলা উদ্দিন।

তার বিরুদ্ধে ফুলবাড়িয়া থানায় বনের গাছ চুরি, বন কর্মকর্তাদের মারপিটসহ ৫০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলায় ৬ মাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা হয়েছে। অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮৭ সাল থেকে বন মামলায় পলাতক ছিলেন আলা উদ্দিন।

৩১ বছর পর বনদস্যু আলা উদ্দিনকে রবিবার রাতে ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফিরোজ তালুকদারের নেতৃত্বে এএসআই সমর দাস, এএসআই ফরহাদুল ইসলাম গাজীপুরের জয়দেবপুর বানিয়াচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেন।

বনখেকো আলা উদ্দিন ওরফে আলা উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের শাহান আলীর পুত্র। আজ সোমবার বনদস্যু আলা উদ্দিনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

উপজেলার নাওগাঁও, রাঙ্গামাটিয়া ও এনায়েতপুর ইউনিয়ন পাহাড়ি অঞ্চল। তিনটি ইউনিয়নে সরকারি বন রয়েছে। বনাঞ্চলে প্রায় ৫ হাজার একর জমিতে শাল, চাম্বল, সেগুন, মেহগণি, আকাশমণিসহ মূল্যবান গাছ ছিল এক সময়। ১৯৮৫ সাল থেকে বনের গাছ কাটা শুরু হলেও ১৯৯৮ সালের পরে গাছ কাটার মহোৎসব চলে। কয়েক বছরে মধ্যেই বনের গাছ উজাড় করে ফেলে বনখেকোরা।

সন্তোষপুর বিট কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, আলা উদ্দিন ভয়ংকর বনদস্যু ছিল। বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে গাছ চুরিসহ অর্ধশতাধিক মামলা করেছেন বিট কর্মকর্তারা।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার (পিপিএম বার) জানান, বনদস্যু আলা উদ্দিন ৩১ বছর যাবত এলাকা ছাড়া। পুলিশের চোখকে ফাাঁকি দিয়ে ছদ্মবেশেসহ স্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গাজীপুরের জয়দেপুর বানিয়াচালা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা