kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

কালকিনিতে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে শিক্ষকদের কালো ব্যাজ ধারণ

কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

২৪ জুন, ২০১৯ ২০:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কালকিনিতে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে শিক্ষকদের কালো ব্যাজ ধারণ

মাদারীপুরের কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাসানুল সিরাজীর নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং অপসারণের দাবিতে সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষিকারা আজ সোমবার সকাল থেকে কালো ব্যাজ ধারণ করে এবং দুপুরে কলেজ হলরুমে এক প্রতিবাদ সভা করেন।

প্রতিবাদ সভায় শিক্ষকরা বলেন, ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন মো. হাসানুল সিরাজী। যোগদানের পর থেকে কলেজে অব্যবস্থাপনার কারণে পাঠদান এখন হুমকীর মুখে। আমরা সাধারণ শিক্ষকরা কর্তৃপক্ষকে বারবার অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়মের কথা অবহিত করা সত্ত্বেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে বাধ্য হয়ে কালো ব্যাচ ধারণ কর্মসূচি পালন শুরু করেছি। কয়েকজন শিক্ষককে নিজের কাছে নিয়ে সিনিয়র শিক্ষকদের বাদ দিয়ে সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।

তারা বলেন, কলেজে তিনি একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন অধ্যক্ষ। যা কলেজের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। বিভাগীয় সিদ্ধান্ত না মেনে তিনি নিজের মতো করে ক্লাস রুটিনসহ অন্যান্য কাজ সম্পাদন করেন। কিছু কিছু শিক্ষককে তিনি বাধ্যতামূলক ক্লাস নেওয়া থেকে বাদ দিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন। তিনি ম্যানেজিং কমিটিকে তোয়াক্কা না করে নিজের মতো করে কলেজ পরিচালনা করছেন।

তারা আরো জানান, কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় ২০১৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কলেজের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন দিবস পালন করার জন্য প্রস্তুতি না নিয়ে, শিক্ষকদের সময় না দিয়ে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে বলেন। কলেজ থেকে তিন মাস ধরে কোনো শিক্ষককে বেতন পাচ্ছেন না। ঈদের সময়ও শিক্ষকদের কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। বেতন না পেয়ে শিক্ষকরা কষ্টে দিন অতিবাহিত করছেন। আমাদের একটাই দাবি কলেজ আমাদের রক্ষা করতে হবে। এর জন্য অধ্যক্ষের অপসারণ ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই।

এ সময় বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় প্রধান ইয়াকুব খান শিশির, কাজী কামরুজ্জামান, আবু আলম, আলমগীর হোসেন, আব্দুল জলিল, এনামুল হক প্রমুখ।

অভিযুক্ত অধ্যক্ষ হাসানুল সিরাজী বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়। আমি যদি কোনো অর্থনৈতিক বা অনৈতিক কোনো কাজ করি তার জন্য কর্তৃপক্ষ আছে, দুদক আছে।

এ ব্যাপারে কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. তৌফিকুজ্জামান শাহিন বলেন, আমরা আগামী ১ জুলাই ম্যানেজিং কমিটির সভা ডেকেছি। ওই সভায় শিক্ষকদের কথা ও অধ্যক্ষের শুনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব। তবে দোষী যেই হোক কলেজের স্বার্থে আমরা কঠিন সিদ্ধান্ত নেব। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা