kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

বখাটের ভয়ে প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা দিতে পারছে না স্কুলছাত্রী

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি    

২৪ জুন, ২০১৯ ১৯:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বখাটের ভয়ে প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা দিতে পারছে না স্কুলছাত্রী

যশোরের কেশবপুরে এক বখাটে ও তার সহযোগীদের ভয়ে ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। ভয়ে সে প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করতে পারেনি। ছাত্রীর পরিবারও রয়েছে আতঙ্কের মধ্যে। প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন ওই ছাত্রীর বাবা। 

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার বরণডালী গ্রামের সিরাজুল ইসলাম মোল্যার মেয়ে এসএসজি বরণডালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ে। একই গ্রামের রবিউল ইসলাম সরদারের ছেলে রোকুনুজ্জামান রিপনের নিকট নিজ বাড়িতে প্রাইভেট পড়ত। 

সিরাজুল ইসলাম মোল্যা বলেন, প্রাইভেট পড়াকালীন ওই যুবকের কথাবার্তা এবং চলাফেরা সন্দেহ হলে তার নিকট প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে ওই যুবক স্কুলে যাওয়ার পথে বিভিন্নভাবে ইভটিজিং করে এবং তাদের বাড়িতে নানা রকম হুমকি দেয়। হুমকির কারণ উল্লেখ করে গত ১৩ মে কেশবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। যার নং: ৪৮৭। 

গত শনিবার (১৫ জুন) ওই ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার পথে তাকে ওই বখাটেসহ তার সহযোগীরা উত্যক্ত করে। ঘটনা উল্লেখ করে ওই ছাত্রীর বাবা সিরাজুল ইসলাম মোল্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেন। উত্ত্যক্তকারীদের ভয়ে ওই ছাত্রী তার চলমান প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিপংকর দাস জানান, ওই বখাটে যুবক এর আগেও কয়েকবার স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করেছিল। তার স্কুলের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকেও উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে জানান। তাকে পরীক্ষায় ফিরে আনার চেষ্টা করার কথা বললেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেননি।

গত কয়েক দিন আগে রাতে ওই ছাত্রীর বাড়িতে কয়েকজন অপরিচিত লোক টর্চ লাইট মেরে ঘোরাঘুরি করে যায়। সে কারণেও তারা এখন আতঙ্কিত। 

প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে মেয়ের বাবা সিরাজুল ইসলাম মোল্যা বলেন, স্কুলে যাওয়ার পথে তার মেয়ে অপহরণ হতে পারে আশংঙ্কায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। 

পরিবেশ সুষ্ঠু অবস্থায় ফিরে এলে মেয়েকে স্কুলে পাঠাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইতিপূর্বেও তিনি ভালুকঘর পুলিশ ফাঁড়িতে ঘটনাটি অবহিত করেন। 

ভালুকঘর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত এসআই নাসির উদ্দিন বলেন, মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে তার কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা ওই মেয়ের বাবা তার কাছে কোন অভিযোগ করেননি। তবে ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান বলেন, মেয়ের বাবার অভিযোগ পেয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা পুলিশের নিকট পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন বলেন, ওই বখাটেকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সে এখন পলাতক। তবে ওই ছাত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা