kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

গরমে হাঁসফাঁস

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২৪ জুন, ২০১৯ ১৮:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গরমে হাঁসফাঁস

ছবি : কালের কণ্ঠ

গত কয়েক দিনের দাপদাহে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তীব্র গরমের কারণে অস্বস্তিতে পড়েছেন তারা। এই অসহনীয় গরমের মধ্যেই কষ্ট করে কাজ করতে হচ্ছে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষদের। মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হলেও গরম কমছে না। সেই সাথে বিদ্যুতের অসহনীয় লো ভোল্টেজ জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষদের কারণে দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত গরমে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন অনেকেই।

ঋতু পরিক্রমা অনুয়াযী প্রকৃতিতে এখন বর্ষাকাল। তবে বর্ষাকালে অবিরাম বৃষ্টির দেখা না পেলেও পঞ্চগড়ের মানুষেরা দাপদাহে পুড়ছেন। মাঝে মধ্যে দিতে কিংবা রাতে কিছু সময় বৃষ্টিপাত হলেও গরম কমছে না। সকাল থেকে সূর্যের কড়া তাপ বিরামহীনভাবে চলছে বিকেল পর্যন্ত। রাতেও গরমের সেই আচ থেকেই যাচ্ছে। বর্ষাকালের এমন গরমে হাপিয়ে উঠেছেন এ জেলার মানুষেরা। 

দিনের বেলায় বাড়ি থেকে বের হলেই ছাতা ব্যবহার করতে হচ্ছে। সেই সাথে বিদ্যুতের অসহনীয় লো ভোল্টেজের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। লো ভোল্টেজের কারণে ফ্যানও ঠিকমতো ঘুরছে না। অপরদিকে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও তীব্র দাপদাহে বিভিন্ন বয়সী মানুষেরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন। স্বর্দি, জ্বর, ডায়েরিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে তারা পঞ্চগড়ের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ৫০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তার মধ্যে ৩০ জনই তীব্র গরমের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। 

পাথর শ্রমিক রতিন দাস বলেন, এই গরমে কাজ করতে কলিজা শুকিয়ে যায়। রোদের মধ্যে কাজ করে বেশিক্ষণ থাকা যায় না। তবু পেটের দায়ে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। কেও কেও অসুস্থ হয়ে পড়ে।   

পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র সোহাগ ইসলাম বলেন, রোদের তাপের কারণে রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়াটাও কষ্টকর। বার বার পানি পিপাসা লাগছে। 

পঞ্চগড় সদর উপজেলার আব্দুল আজিজ বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টি হচ্ছে না, উল্টো অস্বাভাবিক গরমে থাকা যাচ্ছে। ঘরে ও বাইরে কোথাও শান্তি নেই। জুতা ছাড়া সড়কের উপর দিয়ে হাঁটলে ফসকা পড়ে যাচ্ছে। ছাতা ছাড়াতো বের হওয়া যায় না। আবহাওয়া কেমন জানি বদলে যাচ্ছে।

পঞ্চগড় পরিবেশ পরিষদের সভাপতি তৌহিদুল বারী বাবু বলেন, বিশ্বে যে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে এটা তারই প্রভাব। সময় মতো বৃষ্টিপাত না হওয়া, অসময়ে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা এসব জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্কেত। আমাদের সচেতন হওয়ার এখনই সময়। আর তা না হলে আমাদের মতো দেশগুলোকে এর কঠিন মূল্য দিতে হবে।  
  
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়া সহকারী রহিদুল ইসলাম জানান, গত কয়েক দিন ধরে পঞ্চগড়ের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করছে।  সোমবার জেলার সর্ব নিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। 

মন্তব্য