kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

নড়বড়ে লাইনে ক্লিপ ‘ছাড়াই’ চলছিল ট্রেন!

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২৪ জুন, ২০১৯ ১৭:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নড়বড়ে লাইনে ক্লিপ ‘ছাড়াই’ চলছিল ট্রেন!

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল রেলস্টেশনের কাছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হয়েছিলো কয়েক মাস আগে থেকেই। ওই এলাকার রেল লাইন দীর্ঘদিন থেকে নড়বড়ে ছিলো বলে স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন। রেল লাইনে ছিল না ক্লিপ। অবশেষে সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো। রবিবার, ২৩ জুন রাতে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি বরমচাল স্টেশনের ইসলামাবাদ এলাকার বড়ছড়া ব্রিজে লাইনচ্যুত হয়ে একটি বগি খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

ক্লিপ ছাড়া নড়েবড়ে রেললাইন নিয়ে ‘কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে’ দায়ী করে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন প্রবাসী লুৎফর রহমান রাজু নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে কয়েকটি ছবিসহ তিনি পোস্টটি দিয়েছিলেন। 

পাঠকদের জন্য হুবুহু সেই পোস্টটি তুলে ধরা হলো : 

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

রেললাইনে ক্লিপ ছাড়াই চলছে রেলগাড়ী! প্রথম ছবিটা আপনাদেরকে বুঝাবে এই ক্লিপগুলোর প্রয়োজনীয়তা। পরের ছবিগুলো দেখুন- এই ক্লিপগুলো নেই। স্থান কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল রেলওয়ের এর আশপাশ।

এমন অবাক করা দৃশ্যটি গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নজরে পড়ে বরমচাল কালা মিয়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফাজু চৌধুরীর। সাথে সাথে একজন সমাজ সচেতন মানুষ হিসেবে সবার দৃষ্টি গোচর করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি পোস্ট করেন। এটি ছিল তার দায়িত্ববোধ থেকে করা একটি সচেতনতামূলক পোস্ট। কিন্তু অবাক হবার বিষয় হল, আজ পর্যন্ত এলাকার এমন কেউ কি বিষয়টি নিয়ে কোন প্রকার আলোচনায় গিয়েছেন স্থানীয় বরমচাল স্টেশন মাস্টারের কাছে? প্রশ্নটা থেকেই যায়! 

আমাদের কি আরো একটু খেয়ালি হওয়া যায় না। বিষয়টি নিয়ে স্টেশন মাস্টারকে অবগত করে অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনা রোধ করা যায় না? রেল লাইনে ব্যবহৃত এসব লোহা খুব ভালো মানের লোহা। দাম পাওয়াা যায় মনে হয় ভালো। অথচ এর জন্য যে জীবনের দাম দিতে হতে পারে সেটা ভাবার সময় কই? কর্তৃপক্ষের এদিকে নজর নেই। ট্রেনলাইনও নড়েবড়ে। ট্রেন চলার সময় বাসের মতো ঝাঁকুনি খায়। লাইনের যে জোড়াগুলো আছে সেগুলোর ভিত্তি দুর্বল। লাইনচ্যুতি সময়ের ব্যাপার। 

লাইনের পাশ দিয়ে রাস্তা ঘাট, দোকান পাট। যেকোন সময় ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ঘটতে পারে মারাত্মক দূর্ঘটনা। তিনি আশা করে বলেন, এলাকার জনসচেতন নাগরিকরা যারা এলাকা নিয়ে সবসময় ভালো কিছু চিন্তা করেন, তারা সবাই নিজেদের মূলবান কিছু সময় নষ্ট করে হলেও বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ে কর্তব্যরত মাষ্টারের সাথে আলোচনা করে বিষয়টির একটি সমাধান করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা