kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

ভোরের আরিচায় পাগলি মায়ের কোলে আস্ত এক সূর্য

মারুফ হোসেন, মানিকগঞ্জ   

২০ জুন, ২০১৯ ১৯:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোরের আরিচায় পাগলি মায়ের কোলে আস্ত এক সূর্য

আরিচা ঘাটের পুরাতন ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় বুধবার ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। শিশুটির নাম রাখা হয় সূর্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাটের পুরাতন ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় বুধবার ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। কেউ তার পরিচয় জানে না। তবে সন্তান প্রসবের পর স্থানীয় প্রশাসন ওই পাগলি ও তার সন্তানের প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব নেন। এ সময় সন্তান প্রসবের পর গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় পাগলিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর নবজাতককে স্থানীয় হামিদা বেগম নামে এক নারীর কাছে আপাতত পরিচর্যার জন্য রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অন্ধকার রাতে সন্তান সম্ভবা এক মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের প্রসববেদনার গগণবিদারী চিৎকার ভারি করে তুলেছিল আরিচা ঘাটের পরিবেশ। এসময় ঝাড়ুদার জাহানারা বেগম ছুটে গিয়েছিলেন অসহায় সেই মায়ের কাছে। আশপাশের আরো কয়েকজন নারীকে ডেকে এনে প্রসব করান পাগলিকে। জন্ম নেয় ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। অন্ধকার কাটিয়ে ভোরের সূর্য্য যখন উকি দিচ্ছিল তখনই পৃথিবীর আলো দেখে নিষ্পাপ শিশুটি। এজন্যই তার নাম রাখা হয়েছে সূর্য। এলাকার অনেকে শিশুটিকে দত্তক নিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

স্থানীয় নিহালপুর গ্রামের কালা সেখের স্ত্রী জানাহারা বেগম জানান, আরিচা বন্দরে তিনি ঝাড়ুদারের কাজ করেন। মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে প্রতিদিনের মতো ঝাড়ু দেয়ার জন্য বাজারে আসেন। এসময় হঠাৎ পাগলির চিৎকার শুনতে পান। পুরাতন ট্রাক টার্মিনালে গিয়ে দেখেন কাদা মাটির মধ্যে গড়াগড়ি করছেন তিনি। সন্তান প্রসবের আগ মুহূর্তে পাগলির এমন কষ্ট দেখে গ্রামের ধাত্রি মেহেরুন নেছা, সুলতানাসহ আশপাশের কয়েকজন নারীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলেন জাহানারা। রাতভর চেষ্টার পর ভোরের দিকে সন্তান প্রসব করান তারা।

মা আর সন্তান তখন কাদা মাটিতে একাকার হয়ে যায়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় সকালে স্থানীয় এক চিকিৎসককে ডেকে এনে পাগলিকে স্যালাইন দেন ওই নারীরাই। পাগলির সন্তানকে দেখতে ভীড় জমান কয়েকশ’ নারী-পুরুষ।

জাহানারাসহ যে সকল নারীর চেষ্টায় পাগলি ও তার সন্তান বেঁচে যান তাদের প্রশংসা করেন স্থানীয়রা। অনেকেই মানসিক প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণকারীকে খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পাগলিকে উদ্ধার করে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান তিনি। ইউএনও নবজাতকের নাম রাখেন সূর্য। সূর্যের পরিচর্যার জন্য হামিদা নামের এক নারীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এসময় তিনি আর্থিক সাহায্যও করেন।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ জানান, স্থানীয়দের কাছে জানতে পারি নবজাতকের যখন জন্ম হয় তখন আকাশে সূর্য উকি দিচ্ছিল। সেই মুহূর্তকে ধরে রাখার জন্যই শিশুটির নামও রাখা হয়েছে সূর্য।

তিনি আরো জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিশুটিকে ঢাকায় ‘ছোট মণি’ নবজাতক সেইফ হোম-এ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সূর্যকে দত্তক নিতে অনেকেই আগ্রহ দেখালে তাদেরকে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৫/৬ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীকে আরিচা ঘাট এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায। রাতে পুরাতন টার্মিনালে খোলা আকাশের নিচে ঘুমাতে দেখা যায় তাকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা