kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

স্কুল মাঠের দখল নিল বালু, পাথর আর বিটুমিনের ধোঁয়া

মাহাবুর রহমান, বিরামপুর   

২০ জুন, ২০১৯ ১৯:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্কুল মাঠের দখল নিল বালু, পাথর আর বিটুমিনের ধোঁয়া

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার হরিহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি দখল করে সেখানে নির্মাণসামগ্রী রেখেছে 'মোজ্জাফর ট্রের্ডাস' নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এটুকুতেই খান্ত হয়নি তারা, বিদ্যালয় মাঠে চুল্লি বসিয়ে চলছে বিটুমিন গলানোর কাজ। ধূলা, শব্দ আর ধোঁয়ায় ছেয়ে থাকে বিদ্যালয়টি। এতে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়াই স্কুল কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান বলেন, প্রায় ২০ দিন আগে বিরামপুর থেকে কাটলা ৮ কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজের ঠিকাদারের লোকজন বিদ্যালয় মাঠের এক পাশে বালু ও পাথর স্তূপ করে রেখে যান। এরপর ধীরে ধীরে তারা বিদ্যালয়ের পুরো মাঠ দখল করে বালু ও পাথর রাখতে শুরু করেন। ৬-৭ দিন ধরে মাঠে বিটুমিন গলানো চলছে। এতে বিদ্যালয়ে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ধোঁয়ায় তৈরি হয়েছে দম বন্ধ করা পরিবেশ।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, হরিহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো মাঠ দখল করে বালু ও পাথর রাখা। শ্রেণিকক্ষের সামান্য দূরে গরম চুল্লি জ্বালিয়ে বিটুমিন গলানো হচ্ছিল। এ সময় সেখানে ধোঁয়ায় থাকা যাচ্ছিল না। 

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়হান, সাজু, নুসরাত জাহান জানান, শ্রেণিকক্ষে ধূলাবালি ঢুকে বই-খাতা ভরে যায়। ধোঁয়ায় দম আটকে আসে। মাঠে খেলাধূলা তো দূরের কথা, চলাফেরাও করা কঠিন হয়ে গেছে।

স্থানীয় কাটলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সমস্যা করে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হতে পারে না। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আমাদের সাথে যোগাযোগ না করেই এমন কাজ করেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিনারা বেগম বলেন, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ০মো. আকতারুজ্জামান হোসের এর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে সেখানে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাই। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি দ্রুত এটির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান জানান, অভিযোগ পেয়েছি, ইউএনও স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান জানান, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেন কোনো সমস্যা না হয় সেই বিষয়টি মাথায় রেখে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা