kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

বেতাগীতে কৃষি শুমারির তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৯ জুন, ২০১৯ ২১:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেতাগীতে কৃষি শুমারির তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

বরগুনার বেতাগীতে কৃষি শুমারির তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, কৃষি (শষ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে ২ জন জোনাল অফিসার, ১১ জন সুপারভাইজার ও ১২০ জন তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

তথ্য সংগ্রহকারীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা করে ৫ লক্ষাধিক টাকা আদায় করছেন পরিসংখ্যান সহকারী মো. শাহ আলম তালুকদার। পরিসংখ্যান সহকারী শাহ আলম নিজেকে ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন সময়ে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

নিয়োগকৃত তথ্যসংগ্রহকারীদের তিন দিনের প্রশিক্ষণের নিয়ম থাকলেও একদিনের নামমাত্র প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণ ভাতা হিসেবে দৈনিক ১২৫ টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও তথ্যসংগ্রহকারীদের আজ পর্যন্ত কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। 

পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শাহ আলম তালুকদার নিজেও জোনাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ নিয়েছেন, যা প্রকল্পের বিধিসম্মত না। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক তথ্য সংগ্রহকারী অভিযোগ করেন, টাকা না দেয়ায় প্রশিক্ষণ নিয়েও তারা নিয়োগ পায়নি। বেতাগী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডেও সুমন জানান, আমি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেও কর্মকর্তা শাহ আলম তালুকদারকে টাকা দেইনি, এজন্য আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।’ 

অন্যদিকে তথ্যসংগ্রহকারী হিসেবে চাহিদানুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও নিয়োগ পেয়েছেন জোসনা বেগম নামে নিরক্ষর এক নারী। জোসনা বেগমের পক্ষে তার ছোট বোন কাজ করছেন। ৯ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত এ শুমারির দায়িত্বে থাকা একজন তথ্য সংগ্রহকারী ১২ হাজার টাকা, ১ জন সুপরিভাইজার ১৩ হাজার টাকা পাবেন। 

এ বিষয় ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. শাহ আলম তালুকদার অভিযোগের কথা অস্বীকার করে বলেন, সরকারি দলের নেতাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগে অর্থ আদায়ের কোনো প্রশ্নই আসে না।’ 

উপজেলা পরিষদেও ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম পিন্টু বলেন, এ বিষয় সুপারিশ তো দূরের কথা, কোনো তথ্যই জানানো হয়নি তাকে। শাহ আলম সাহেব নিজে স্বজনপ্রীতি করে নিয়োগ দিয়েছেন।

জেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বেতাগীতে পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে, যিনি রয়েছেন তিনি পরিসংখ্যান সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। তার ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। তবে তিনি এ প্রকল্পের জোনাল অফিসারের দায়িত্বে আছেন। তথ্যসংগ্রহকারীদের নিকট থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা