kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

প্রচণ্ড গরমে শ্রীমঙ্গলে আট ঘণ্টায় ১০ হাজার মুরগির মৃত্যু

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১৯ জুন, ২০১৯ ২০:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রচণ্ড গরমে শ্রীমঙ্গলে আট ঘণ্টায় ১০ হাজার মুরগির মৃত্যু

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গতকাল মঙ্গলবার তীব্র দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় শতাধিক পোলট্রি খামারে ১০ হাজারেরও বেশি মুরগি মারা গেছে। এতে ক্ষুদ্র খামারিদের ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম মঙ্গলবার রাতে কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত খামার পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস এবং ক্ষতি পুষিয়ে ওঠতে খামারিদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদনের পরামর্শ দেন।

জানা যায়, মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন সঞ্চালন লাইনে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য মঙ্গলবার সারা উপজেলায় দীর্ঘ আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ওইদিন দুপুরের দিকে শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অধিকাংশ মুরগিগুলো এ সময়ে মারা যায়।

মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সোমবার সন্ধ্যায় শুধুমাত্র শ্রীমঙ্গল শহর এবং এর আশপাশের এলাকায় সীমিত আকারে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের প্রচারিত এই বিজ্ঞপ্তি অধিকাংশ গ্রাহকরাই শোনেননি। ফলে বাসা বাড়িতে পানির ব্যবস্থা না করায় শহরের বাসিন্দারা তীব্র পানি সংকটে কষ্ট পেয়েছেন। অধিকাংশ পোলট্রি খামারিরা বিজ্ঞপ্তি না শোনার কারণে খামারের জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা করতে পারেননি।

আজ বুধবার সকালে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের তাজুল মিয়ার আসিফ পোলট্রি খামারের ৮০০টি ব্রয়লার মুরগি, ওয়াহিদ পোলট্রি খামারের দুই শতাধিক, শিববাড়ি গ্রামের মো. লিটন মিয়ার ৪০০টি, ভূনবীর ইউনিয়নের সুশীল ঘোষের ৪০০টি, কামারপাড়ার নৃপেন্দ্র সরকারের ১৬০টি, একই গ্রামের নূর মিয়ার ১১০টি, আলিশারকুল গ্রামের আব্দুল্লাহ্ মিয়ার ৯০টি, কামারপাড়া গ্রামের শান্ত সরকারের ৭৫টি, কালাপুর ইউনিয়নের সিরাজনগর গ্রামের হাবিবুর রহমানের দুটি খামারের এক হাজার ২০০টি, একই গ্রামের সুফিয়ান মিয়ার খামারের ১০০টি, নূরজাহান চা বাগানের মনসুর মিয়ার খামারের ৮০টি, মোহাজিরাবাদ গ্রামের ইব্রাহীম মিয়ার খামারের ১৬০টি, মির্জাপুর ইউনিয়নের বৌলাশী গ্রামের রোমান মিয়ার খামারের ১৫০টি, খিলগাঁও গ্রামের শাহ্জাহান মিয়ার খামারের ২০০টি, যাত্রাপাশা গ্রামের কৃষ্ণ দের খামারের ১৫০টিসহ প্রায় ১০ হাজার মুরগি মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শ্রীমঙ্গল পোলট্রি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সারা উপজেলায় মঙ্গলবার সব খামারেই মুরগি মারা গেছে মহামারির মতো। এর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। অনেক খামারি পথে বসার উপক্রম হয়েছে। 

শ্রীমঙ্গল পোলট্রি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, মারা যাওয়া মুরগির ওজন এক থেকে তিন কেজি। তাদের অন্তত ২৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। 

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শিবু লাল বসু বলেন, রমজান মাসে সাব স্টেশনের সঞ্চালন লাইনের একটি খুঁটি বিপজ্জনকভাবে ভেঙে পড়ে। রমজান মাস বিবেচনায় ওই সময়ে কাজটি করা হয়নি। মেরামত কাজটি খুবই জরুরি হয়ে পড়েছিল।

তীব্র গরমের সময়টি এড়ানো যেতো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরমে গ্রাহরা কষ্ট পেয়েছেন এজন্য আমরা দুঃখিত। কিন্তু এর কোনো বিকল্প ছিলো না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা