kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

এইচএসসি পাস করেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক!

চট্টগ্রামে ভুয়া চিকিৎসক, ফার্মেসি মালিককে জেল-জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৯ জুন, ২০১৯ ০৪:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এইচএসসি পাস করেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক!

এইচএসসি পাস করলেও তিনি ডায়াবেটিস, মেডিসিন ও শিশু রোগের চিকিত্সক! তাঁর নামের পাশে এমবিবিএস, সিসিডি (বারডেম) ও ডিএমইউ (ডিইউ) ডিগ্রি লেখা। নিজেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। এসব ডিগ্রি ও পদবি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখে আসছিলেন তিনি।

অবশেষে অভিযুক্ত বিকিরণ বড়ুয়া ধরা পড়েছেন। তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সঙ্গে তিনি যে ফার্মেসিতে চেম্বার খুলেছিলেন তার মালিক ফরিদুল আলমকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ পতেঙ্গার বিজয়নগরে নুরুল গণি মার্কেটের ‘আয়েশা মেডিক্যাল’ ফার্মেসিতে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন, র্যাব ও সিভিল সার্জন কার্যালয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান। অভিযান বিষয়ে গতকাল দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়। 

অভিযানের সময় ছিলেন র্যাব-৭-এর সিনিয়়র এএসপি মিমতানুর রহমান, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডা. মোহা. ওয়াজেদ চৌধুরী অভি প্রমুখ। 

মিমতানুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর আয়শা মেডিক্যালে বিকিরণ বড়ুয়ার চেম্বারে র্যাবের এক সদস্যের মাধ্যমে গত সোমবার সন্ধ্যায় চিকিত্সা করাতে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে তিনি (মিমতানুর) রোগী সেজে চেম্বারটিতে যান। তখন চেম্বারে ৩০-৪০ জন রোগী ছিল। তাদের মধ্যে প্রসূতি, শিশুও ছিল। মিমতানুরকে চিকিত্সা দেওয়ার সময় তিনি বিকিরণের কাছে তাঁর পড়ালেখা ও ডিগ্রি সম্পর্কে জানতে চান। তিনি এমবিবিএস পাস ও কাস্টমসের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। 
ভারতের কলকাতার একটি মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাসের কথা বললেও প্রকৃত সনদ দেখাতে পারেননি। তবে বাংলাদেশ থেকে এইচএসসি পাসের সনদ দেখিয়েছেন।

তাহমিলুর রহমান বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে বিকিরণ দাবি করেন তাঁর বিএমডিসি নিবন্ধন আছে। নম্বর ৯১১১৩। তবে আমাদের সঙ্গে থাকা সিভিল সার্জন অফিসের চিকিত্সক ওয়াজেদ চৌধুরী অভি ওয়েবসাইটে খুঁজে এই নম্বরে বিকিরণের নাম পাননি। পরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে যোগাযোগ করেও সেখানে কর্মরত থাকার তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি।’ তিনি জানান, আয়শা মেডিক্যালের মালিক ফরিদুল জিজ্ঞাসাবাদে বিকিরণ ডাক্তার না হয়েও চিকিত্সা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁরা দুজন যোগসাজশে ফার্মেসির সঙ্গে চেম্বার খোলেন। ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে চার বস্তা অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ-নিষিদ্ধ ওষুধও পাওয়া যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা