kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ জুলাই ২০১৯। ৮ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৯ জিলকদ ১৪৪০

পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, আ. লীগ প্রার্থীর জয়

পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

১৯ জুন, ২০১৯ ০২:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, আ. লীগ প্রার্থীর জয়

জাহিদুল ইসলাম সুজন

নানান অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে স্থগিত হওয়া নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ১৮ জুন মঙ্গলবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। তবে অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম।

উপজেলার ৭৪টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী (নৌকা) জাহিদুল ইসলাম সুজন ৫৭ হাজার ৭৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র-আনারস) মাছুদ আলম টিপু পেয়েছেন ৩৪ হাজার ২৬৭ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে শেখ রাজু আহমেদ (চশমা) ২৩ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে নুরুল আমিন খান পাঠান শওকত (তালা) পেয়েছেন ২২ হাজার ৬২৩ ভোট, হারুন অর রশিদ (টিউবওয়েল) ১২ হাজার ১৬৩ ভোট, আব্দুর রাশিদ শেখ (বই) ৯ হাজার ৫১৭ভোট, নূরুজ্জামান কামরুল (উড়োজাহাজ) ৮ হাজার ৩৪৪ ভোট, রফিকুল ইসলাম (টিয়াপাখী) ৬ হাজার ৬৭৮ ভোট, আর্শাদ মিয়া (মাইক) ৫ হাজার ৪৬৪ ভোট।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সুমী আকন্দ (কলসী) ২৭হাজার ২৪৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে মনি কুমার কর্মকার (হাঁস) পেয়েছেন ২৪ হাজার ১৭২ ভোট, লাভলী আক্তার (ফুটবল) ২০ হাজার ৫৩ ভোট, হোসনে আরা বেগম লুৎফা (পদ্মফুল) ৯ হাজার ৩ ভোট, সোলেমা খাতুন (সেলাইমেশিন) ৬ হাজার ৩৩৫ ভোট।

উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বুথে প্রবেশ করে ছবি ওঠানোর অভিযোগে বিডি টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া দেলোয়ার হোসেন (২২) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তেনুয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সামান্য দাওয়া পাল্টা দাওয়ার ঘটনা ঘটলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ছাড়া আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। 

উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে ২২ জন নির্বাহী হামিকের নেতৃত্বে মোবাইল টিম, ৫ প্লাটুন বিজিবি, প্রতি কেন্দ্রে ১০/১২ জন পুলিশ, ১২ জন আনসার সদস্য ও র‌্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন ছিল।

ভোটার উপস্থিতির কারণ হিসেবে স্থানীয় অনেকে জানান, নির্বাচন নিয়ে নানান অপ্রীতিকর ঘটনার ফলে জনমনে এক ধরণের আতংক ছিল। তাছাড়া গত সংসদ নির্বাচনে প্রভাবের ফলেও অনেকে ভোট প্রদানে আগ্রহ ছিল না। 

উল্লেখ্য, গত ১০মার্চ প্রথম ধাপে এ উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, নিবার্চনী কার্যালয় ভাঙচুর, মামলা, ইসি কমিশনে অভিযোগসহ নানান ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচনের দুইদিন আগে ৮ মার্চ এ উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করে ইসি। এরই মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় সাংসদের বিরুদ্ধ মামলাও করে ইসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা