kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

ইয়াবা কারবারিদের নিয়ে কক্সবাজারের আদালত হাজতখানায়ও রমরমা দুর্নীতি

হাজতখানা থেকে পুলিশ ব্যারাকে এমপি বদির ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৯ জুন, ২০১৯ ০১:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাজতখানা থেকে পুলিশ ব্যারাকে এমপি বদির ভাই

ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারে ইয়াবা কারবারিদের নিয়ে কেবল জেলা কারাগারে নয়, আদালত হাজতখানায়ও চলছে রমরমা বাণিজ্য। বিশেষ করে কক্সবাজারে আটক আত্মসমর্পণ করা ১০২ জন ইয়াবা কারবারিদের নিয়েই পুলিশ ও কারারক্ষীরা বাণিজ্যে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা কারাগারে কারবারিদের থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে পদে পদে যেমনি দুর্নীতি চলছে তেমনি আদালতের হাজতখানা কেন্দ্রিক দুর্নীতির চিত্র আরো ভয়াবহ বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজারের আদালত হাজাতে আনা হাজতি আসামিদের নিয়ে পুলিশ সদস্যরা নানা দুর্নীতিতে জড়িত রয়েছে। হাজতখানা থেকে বের করে স্বজনদের সঙ্গে আলাপের সুযোগে আদায় করা হয় বিপুর অংকের টাকা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আসামি যথা আত্মসমর্পণ করা ১০২ জন ইয়াবা কারবারির মতো দুর্ধর্ষ আসামিদের নিয়ে এরকম অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দিতে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনারও শংকা করা হচ্ছে। যেমন জঙ্গি আপহরণের মতো ঘটনারও নজির রয়েছে এখানে।

কক্সবাজারের আদালত হাজতখানায় প্রতিদিন গড়ে অর্ধ শতাধিক হাজতি আসামি জেলা কারাগার থেকে চলমান মামলায় উপস্থিতির জন্য আনা হয়। এসব হাজতি আসামিদের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক থাকেন ইয়াবা কারবারি। আবার হাজতি কারবারিদেরও সঙ্গে থাকেন আত্মসমর্পণ করা ১০২ জনের বড় বড় গডফাদারগণ। বিভিন্ন আদালতের পরোয়ানা নিয়ে তাদের করাগার থেকে আনা হয় আদালতে। আত্মসমর্পণ করা ১০২ জন ইয়াবা কারবারিদের নিয়ে যাতে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির কোনো ব্যত্যয় না ঘটে সেজন্য কারাগারে ও আদালতের হাজত খানায় বিশেষ নজরদারির তাগিদ থাকা সত্বেও এসবের কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।

গতকাল মঙ্গলবার জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় ৩ নম্বরে থাকা ইয়াবা ডন টেকনাফের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির ছোট ভাই আবদুস শুকুর। ইয়াবা ডন শুকুরকে আদালতের হাজতখানায় আনার পর থেকেই টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা কারবারিরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে মরিয়া হয়ে পড়ে। আর এমন সুযোগও হাতছাড়া করতে রাজি নয় কক্সবাজার আদালতের হাজতখানার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায় ইয়াবা ডন আবদুস শুকুরকে হাজতখানা থেকে বের করে পাশের পুলিশ ব্যারাকে নিয়ে যেতে। ব্যারাকের একটি বিছানায় বসে লাল গেঞ্জি পরিহিত হাতকড়া লাগানো ইয়াবা ডন আবদুস শুকুর আলাপে বসেন তারই ফুফা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত অপর কারবারি হায়দার আলী ও অপর একজনের সঙ্গে। তালিকাভুক্ত কারবারি হায়দার আলীর ছেলে কামরুল হাসান রাশেদও একজন তালিকাভুক্ত কারবারি। আত্মসমর্পণ করা ১০২ কারবারির সঙ্গে কামরুল হাসান রাশেদও রয়েছেন।

কক্সবাজারের হাজতখানা থেকে এরকম প্রায় হাজতি আসামিদের বের করে নিরাপদ স্থানে আত্মীয়-স্বজনসহ নানাজনের সঙ্গে আলাপের সুযোগ করে দেওয়া হয়। এসব বিষয়ে কক্সবাজারের আদালতে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক মোরশেদ পারভেজ তালুকদার বলেন- ‘আমি নতুন যোগদান করেছি এখানে। তদুপরি মঙ্গলবার প্রায় পুরোদিনই আমি ব্যস্ত ছিলাম। তাই এদিকে তেমন নজর দিতে পারিনি। আগামীতে ব্যাপারটি আমি গুরুত্ব দিয়ে দেখব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা