kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

কলাপাড়ায় নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু, হামলা ও ভাঙচুর

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

১৮ জুন, ২০১৯ ২২:৪৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কলাপাড়ায় নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু, হামলা ও ভাঙচুর

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নিশানবাড়িয়া ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবিন্দ্র দাস (৩২) এক বাঙালি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার পৌনে ৩টার দিকে নির্মাণাধীন বয়লার থেকে বেল্ট ছিড়ে নিচে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু হওয়ার পর লাশ গুম করার গুজব ছড়িয়ে পরলে বাঙালি শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ‌উঠেছে। 

এরপর হাজারো বাঙালি শ্রমিকরা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে হামলা, ভাঙচুরসহ ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে বলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তাগণের সূত্রে জানা গেছে। নিহত শ্রমিক সাবিন্দ্রে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার জয়নগর গ্রামের নগেন্দ্র দাসের ছেলে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে কাজ করার পর মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যুর খবর এবং তার লাশ গুম করার সংবাদ ছড়িয়ে পরায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ৬ হাজার বাঙালি শ্রমিক একত্রিত হয়ে তিন সহস্রাধিক চায়নিজ শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিসিপিসিএল-এর কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়োজিত পুলিশ, কলাপাড়া থানার পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শেষ বিকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছে। 

জানা গেছে, উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের ‘কাজল এন্টার প্রাইজ’-এর অধীনে শ্রমিক সাবিন্দ্র দাস এ বছরের ১৪ মে থেকে বিদ্যুৎ প্লান্টে কাজ করে আসছিল বলে কাজল এন্টার প্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মো. কাজল মৃধা নিশ্চিত করেছেন। 

বিসিপিসিএল-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহমনি জিকো জানান, ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গুজবের কারণে উত্তেজিত হয়ে ক্যান্টিনে, অফিসে, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ও ওয়েল্ডারে হামলা-ভাঙচুর চালায়। এখনো হামলার শঙ্কায় রয়েছেন এ কর্মকর্তা। 

কলাপাড়া থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আনার সকল চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থান নিয়ে আছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা