kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

নির্যাতন করায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৮ জুন, ২০১৯ ২২:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্যাতন করায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এনে আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন তারই ভুক্তভোগী স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন। মামলার আসামি পুলিশ ইন্সপেক্টর সাইদুর রহমান বর্তমানে জয়পুরহাট জেলা পুলিশ লাইনের রিজার্ভ অফিসে আরওআই পদে কর্মরত আছেন।
 
মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের আমলী আদালত এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুন্যাল-২ এ মামলাটি দায়ের করেন আম্বিয়া খাতুন।
 
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের ৩০ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ পৌর সদরের আবুল হোসেনের মেয়ে আম্বিয়া খাতুনের সঙ্গে একই উপজেলার দিঘী সগুনা গ্রামের মৃত কোরবান মোল্লার ছেলে তৎকালীন পুলিশ কনস্টেবল সাইদুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয়।
 
আম্বিয়া খাতুনের বাবা আবুল হোসেন জানান, বিয়ের সময় জামাতা সাইদুর রহমানের পরিবারের দাবি অনুযায়ী ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ১টি মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
 
তিনি আরো জানান, তারপরও বিয়ের কিছুদিন পর থেকে আম্বিয়ার পরিবারকে যৌতুকের চাপ দিতে থাকে পুলিশ কর্মকর্তা সাইদুর রহমানসহ তার দুই ভাই। আর মেয়ে আম্বিয়ার সুখের কথা ভেবে আমি আবারো তৎকালীন সময়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফের যৌতুক হিসেবে দেই। এদিকে ২০১৬ সালে পুলিশ ইনস্পেক্টর হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে সাইদুর রহমান আবারো ৫ লাখ টাকার জন্য প্রায়ই আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। পরে গোপনে ২০১৩ সালে সাইদুর রহমান রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামে আবারো ফারহানা খাতুন ইতি নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে। 
 
জানা গেছে, দ্বিতীয় বিয়ের করার পর থেকেই নানা অজুহাতে প্রথম স্ত্রী আম্বিয়া ও তার একমাত্র মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে সাদিয়া সিমিকে শারীরিক নির্যাতন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আম্বিয়া মেয়েসহ তার বাবার বাড়ি তাড়াশে চলে আসেন এবং বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন।
 
এদিকে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে দেন-দরবার করার পর কোনো সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে একটি মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, তার দুই ভাইসহ ৫ জনকে আসামি করে এবং পৃথক আরেক মামলায় শুধুমাত্র পুলিশ কর্মকর্তা সাইদুর রহমানকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।
 
এদিকে আম্বিয়া খাতুন বলেন, একুশ বছরের সংসার জীবনে স্বামী সাইদুরের কাছ থেকে আমি এতটাই নির্যাতনের শিকার যা বলার নয়। বলেই তিনি কেঁদে ফেলেন।
 
এ প্রসঙ্গে জয়পুরহাট পুলিশ লাইনে রিজার্ভ অফিসে কর্মরত আরওআই পুলিশ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে জানান, আমার কোনো ছেলে সন্তান না থাকার কারণে আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। আমি এখনো স্ত্রী আম্বিয়া ও মেয়ে সিমিকে ভরণ-পোষণ করছি। তিনি আরো জানান, এটা আমার পারিবারিক সমস্যা। ফয়সালাও হয়ে যাবে দ্রুত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা