kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

ছাত্রলীগের অযাচিত হস্তক্ষেপে

শরণখোলা সরকারি কলেজের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১৮ জুন, ২০১৯ ২০:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শরণখোলা সরকারি কলেজের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে

অভ্যন্তরিণ বিষয়ে ছাত্রলীগের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও তাদের অনৈতিক দাবি পূরণ না হওয়ায় দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাগেরহাটের শরণখোলা সরকারি কলেজ। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষাসহ কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ। এসব বিষয়ে বাধাপ্রদান করায় কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শুরু হয় একের পর এক ষড়যন্ত্র। এমন পরিস্থিতির জন্য কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতকর্মী দায়ী বলে কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, রমজানের শেষের দিকে ইফতার পার্টির নামে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাব্বির বহিরাগত অছাত্রদের নিয়ে কলেজের তহবিল থেকে চাঁদা দাবি করে। ওই চাঁদার টাকা না পেয়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়। তাছাড়া ভর্তি ফরমে সরকারি নিয়মে টাকা নেওয়া হলেও সেটাকে অতিরিক্ত বলে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়। ছাত্রলীগের নামধারী ও বহিরাগত চিহ্নিত কিছু লোক কলেজের মসজিদের এসি ছেড়ে সেখানে বসে গল্প করা, ফেসবুক চালানো, সন্ধ্যার পরে মহিলা হোস্টেলের সামনে আড্ডা দেওয়া ও মাদক সেবন করায় বাধা দেওয়ায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তারা নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়।

এমনকি তারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কলেজের বিভিন্ন স্থানে টাঙানো ফেস্টুন-ব্যানার, পোস্টার অপসারণের পুরনো ঘটনাকে একটি ইস্যু তৈরি করে। অপসারণকৃত ওই সব ফেস্টুন-ব্যানারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন নেতার ছবি থাকায় বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছবি অবমাননার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে মানহানিকর বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিতে থাকে কলেজ ছাত্রলীগের ওই সকল নেতকর্মী ও বহিরাগতরা।

এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আলম ফকির বলেন, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাব্বির তার কলেজের নিয়মিত ছাত্র নয়। সে উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের শরণখোলা সরকারি কলেজ ক্যাম্পারে ছাত্র। তার নেতৃত্বে শিক্ষাসহ কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ‘ক্লিন ক্যাম্পাস’ গড়ে তোলা লক্ষ্যে কলেজের যত্রতত্র টাঙানো সব ধরণের ব্যানার-ফেস্টুর, পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। এটাকে তারা ভিন্নখাতে নেওয়া অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কলেজের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাসহ সকলের সহযোগিতা বজায় চাওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাসান মীর বলেন, এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগ বিব্রত। অধ্যক্ষ নুরুল আলম ফকির আমার কাছে কয়েকজন কলেজ ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহম্মেদ মুক্তা বলেন, ছাত্রলীগের নামধারী কিছু ব্যক্তি শিক্ষার পরিবেশ নষ্টসহ ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। এদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আকন ও সহ সভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ করা হয়েছে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সব ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস বলেন, সরকারি নিয়মের বাইরে ফরম পুরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে কলেজের কিছু ছাত্রের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। অপরদিকে অধ্যক্ষের করা অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাব্বির বলেন, কলেজের ভর্তি ফরমে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগের নামে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা