kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

চাষাঢ়া আ. লীগ অফিসে বোমা হামলার দুই প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য গ্রহণ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ জুন, ২০১৯ ০১:২৯ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চাষাঢ়া আ. লীগ অফিসে বোমা হামলার দুই প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য গ্রহণ

নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী ও এক আইনজীবী সহকারী আদালতে সাক্ষি দিয়েছেন। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক শাহ মোহাম্মদ জাকির হাসান তাদের দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এর আগে ২০১৫ সালের ২ আগস্ট মামলার বাদী মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা আইনজীবী খোকন সাহা সাক্ষি দিয়েছিলেন। এনিয়ে আলোচিত এ মামলায় মোট তিনজন সাক্ষি তাদের সাক্ষ্য আদালতে দিয়েছেন।

এ সময় মামলার অভিযুক্ত ৬ আসামির মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও যুবদল নেতা ক্রশ ফায়ারে নিহত মমিন উল্লাহ ডেভিডের ছোট ভাই শাহাদাৎ উল্লাহ জুয়েল সহ দুইজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 
এদের মধ্যে সহোদর আনিসুল মোরসালিন, মুহিবুল মুত্তাকিন ভারতের কারাগারে বন্দি রয়েছে। আর ওবায়দুল্লাহ রহমান নামে একজন পলাতক রয়েছে। এ মামলার অন্যতম আসামি হুজি নেতা মুফতি হান্নানের একটি মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রশিকিউটর আব্দুর রহিমের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী বিদ্যুৎ কুমার সাহা ও আইনজীবী সহকারী সঞ্জিত কুমার দাস সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আদালতে সাক্ষি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে বিদ্যুৎ কুমার সাহা ঘটনার দিন চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে কর্মিসভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন। আর লিটন আওয়ামী লীগ অফিসের হল রুমে ছিলেন। বোমা বিস্ফোরণে লিটন মারাত্মক আহত হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানের এখনো বোমার স্প্লিন্টার রয়েছে। সে ভারতে চিকিৎসা নিয়েছে। এছাড়া তারা দুজন সাক্ষিই ঘটনার দিনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে এ ঘটনায় কারা জড়িত তাদের বিষয় সাক্ষি দিয়েছেন। আগামী ৩ জুলাই পরবর্তী সাক্ষি গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাড়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে তৎকালীন সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমানসহ অর্ধ শতাধিক। তার ব্যক্তিগত সচিব চন্দন শীল, যুবলীগ কর্মী রতন দাস দুই পা হারিয়ে চিরতরে বরণ করেছে পঙ্গুত্ব। এ ঘটনার পর দিন আওয়ামী লীগ নেতা খোকন সাহা বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দুইটি মামলায় (একটি বিস্ফোরক অন্যটি হত্যা) জেলা বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তৈমুর আলম খন্দকারকে প্রধান করে বিএনপি ও এর অঙ্গ দলের মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়।

ঘটনার দীর্ঘ ২২ মাস পর ২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে বোমা ট্র্যাজেডি মামলা দুটির ফাইনাল রিপোর্টে বলা হয়, ‘উল্লেখিত ২৭ জনের কেউই চাষাড়া আওয়ামী লীগ অফিসে ১৬ জুন ২০০১ সালের বোমা হামলায় জড়িত নয়। যদি ভবিষ্যতে অত্র মামলার তথ্য সম্বলিত ক্লু পাওয়া যায় তবে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।’ দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর মামলাটি হিমাগারে থাকার পর সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ২ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে মামলাটি নিষ্পত্তি করার জন্য সরকারকে আদেশ দেয়।

২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঘটনায় নিহত চা দোকানি হালিমা বেগমের ছেলে আবুল কালাম বাদী হয়ে শামীম ওসমান, তার ভাই নাসিম ওসমান, সেলিম ওসমানসহ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও এর সহযোগী সংগঠনের ৫৮ নেতাকর্মীকে আসামি করে একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত এ মামলাটি খারিজ করে দেয়। 

এরপর ঘটনার দীর্ঘ ১২ বছর পর দুটি মামলায় ২০১৩ সালের ২ মে ৬ জনকে অভিযুক্ত ও ৩১ জনকে অব্যাহতি প্রদান করে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি মামলার প্রত্যেকটির ৯৪৭ পাতার চার্জশিট দাখিল করা হয়। এতে মামলার চার্জশিট থেকে তৈমূর আলম খন্দকারসহ ৩১ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আর অভিযুক্ত ৬ জন হলেন- নারায়ণগঞ্জে ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল ক্যাডার মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভোট ভাই শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, ওবায়দুল্লাহ রহমান, ভারতের দিল্লি কারাগারে আটক সহোদর আনিসুল মোরসালিন, মুহিবুল মুত্তাকিন এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু। অভিযুক্তদের মধ্যে জামিনে থাকা কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও ওবায়দুল্লাহ রহমান ছাড়া অন্যরা গ্রেপ্তার রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, ১৬ জুনের বোমা হামলার ঘটনার প্রধান আসামী হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে সারাদেশে ৫১টি মামলা রয়েছে। সে কারণে ২০১৭ সালের এপ্রিল তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে যথাসময়ে তাকে নারায়ণগঞ্জ হাজির করা হয়নি। এ কারণে বার বার সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানো হয়। আর এতে করে মামলার দীর্ঘসূত্রিতাও বাড়ে।

তবে আমরা চেষ্টা করছি নারায়ণগঞ্জের বোমা হামলার মামলা দুটি যেন দ্রুত শেষ করা যায়। অচিরেই এর দৃশ্যমান কাজ পরিলক্ষিত হবে। আমরা চাই দ্রুত চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচারও যেন শেষ হয়।

ওয়াজেদ আলী খোকন আরো জানান, আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি যেন ভারতের কারাগারে থাকা দুইজনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

মন্তব্য