kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

সাংবাদিক ইউনিয়নে ঢুকে মারমুখি আচরণ : তিন পুলিশ প্রত্যাহার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ জুন, ২০১৯ ০১:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাংবাদিক ইউনিয়নে ঢুকে মারমুখি আচরণ : তিন পুলিশ প্রত্যাহার

নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের বারান্দায় প্রবেশ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে মারমুখি আচরণের প্রতি ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ। সোমবার রাতে টহল পুলিশের একটি দল সাংবাদিক ইউনিয়নের বারান্দায় প্রবেশ করে কার্যকরী পরিষদের সদস্য এবং সময় টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি শওকত আলী সৈকত ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন মো. মীকাঈলের সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যবৃন্দ। একই সঙ্গে দোষী পুলিশ সদস্যদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে জেলা পুলিশের সব ধরনের সংবাদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম সোমবার রাত ১০টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে শহরের ১৫৭নং বঙ্গবন্ধু সড়কে প্রিপারেটরি স্কুলের পুরাতন ভবনের নিচতলায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্য্যালয়ের গেটের সামনে একটি টুলে বসেছিলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন মো. মীকাঈল। এ সময় সদর থানার কনস্টেবল মারুফসহ ৫/৬ জন পুলিশের একটি দল এসে মীকাঈলকে বাইরে বসে থাকার কারণে উগ্র ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। মীকাঈল তার পরিচয় দেবার পরেও কনস্টেবল মারুফসহ কয়েকজন পুলিশ তার শার্টের কলার ধরে মারধর এবং টানা-হ্যাঁচড়া করে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থানের সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক শওকত আলী সৈকত হৈ চৈ শুনে বাইরে বের হয়ে আসেন। এক পর্যায়ে মীকাঈল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভেতরে ঢুকে পড়লেও কনস্টেবল মারুফ ও তার সহকর্মীরা সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে মীকাঈলকে টেনে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। 

এ সময় শওকত আলী সৈকত বাধা দিলে কনস্টেবল মারুফ তার সঙ্গেও অকথ্য ভাষায় বাদানুবাদ করেন এবং মীকাঈলকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। সাংবাদিক ইউনিয়ন থেকে একজন সদস্যের ক্যামেরাপার্সনকে বিনা কারণে টেনে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে সাংবাদিক শওকত আলী সৈকতের সঙ্গে কনস্টেবল মারুফ উগ্র আচরণ করেন। এ সময় ইউনিয়নের সদস্য যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক আমির হুসাইন স্মিথ বাইরে এসে ওই পুলিশ সদস্যদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

সোমবার রাতে এ ঘটনার বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের সিনিয়র সাংবাদিক আবদুস সালামকে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি কার্যালয়ে আসেন এবং কার্যকরী পরিষদসহ অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পুলিশের এ আচরণের নিন্দা ও দোষী পুলিশ সদস্যদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম ও সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টিসহ সকল সদস্য এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পুলিশের এ ধরনের অশোভন আচরণে ইউনিয়নের সাংবাদিক সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে জেলার সকল পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের আরো সংযত হওয়ার আহবান জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন। পাশাপাশি জেলার সকল পেশাদার সাংবাদিকদের সঙ্গে সহনশীল আচরণ করতে পুলিশের প্রতি আহবান জানান তারা।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ, প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম-সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, বর্তমান সহ-সভাপতি আহসান সাদিক শাওন, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মজিবুল হক পলাশ, ইউনিয়নের সদস্য আমির হুসাইন স্মিথ, অন্যান্য সদস্যরা ও বিভিন্ন চ্যানেলের ক্যামেরাপার্সনরা।

এ খবর জানার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআইও টু) সাজ্জাদ রোমন সাংবাদিক ইউনিয়নে এসে পুলিশের এ ধরণের আচরণের জন্য পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন। এ ঘটনার জন্য দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে সাজ্জাদ রোমন জানান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের নির্দেশে এ ঘটনায় সম্পৃক্ত পুলিশ কনস্টেবল মারুফসহ তিনজনকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার তদন্তের জন্য পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম এবং ডিআইও টু সাজ্জাদ রোমনের সমন্বয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা