kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

সাংসদ বেলালের বিরুদ্ধে থানায় মামলার আবেদন

নেত্রকোনা ও পূর্বধলা প্রতিনিধি   

১৭ জুন, ২০১৯ ০২:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাংসদ বেলালের বিরুদ্ধে থানায় মামলার আবেদন

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় টানা তিন বারের সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের (বীর প্রতীক) বিরুদ্ধে গতকাল রবিবার থানায় মামলার আবেদন করা করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ্-আল-মোতাহসিম বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় আবেদনটি দায়ের করেন।

এর আগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বুধবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মো. আতিয়ার রহমানের স্বাক্ষরে এই মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ১৮ জুন পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে গত ১০ মার্চ নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন (আওয়ামী লীগ) এবং উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক মাসুদ আলম তালকদার টিপু। টিপু স্থানীয় সাংসদ বেলালের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর, প্রচারে বাধা, মামলা ও সংবাদ সম্মেলনসহ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। এর প্রেক্ষিতে নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব প্রার্থীদের এক মঞ্চে এনে মতবিনিময় সভা করে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কার্যালয়।

এক পর্যায়ে স্থানীয় সাংসদ বেলাল স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপুর পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সভা সমাবেশ করে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণা চালানো ও থানার তৎকালীর ওসি বিল্লাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওই প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে আওয়ামীলীগ মনোনীতি প্রার্থী সুজন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। 

এর প্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০১৬ এর ২২ বিধি মোতাবেক গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সাংসদকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় ইসি। এ ছাড়া ওসি বিল্লাল উদ্দিনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তখন সাংসদ নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করলেও নির্বাচনের তিন দিন আগে আবারো নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান নেন। বিষয়টি সুজন কমিশনকে অবহিত করলে নির্বাচনের দুই দিন আগে ৮ মার্চ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে নির্বাচন ন্যায় সঙ্গত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলে স্থগিতের নির্দেশ দেয়। 

এরপর গত ৩০ মার্চ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্মসচিব ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আব্দুল বাতেনের নেতৃত্বে এ বিষয়ে তদন্ত করেন। নির্বাচনে বিধিভঙ্গের ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সাংসদের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেয় ইসি।
 
পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা একটি অভিযোগ দিয়েছেন। ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে অভিযোগটি মামলা হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করা হবে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ্-আল-মোতাহসিম বলেন, ইসির নির্দেশে বুধবার পূর্বধলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি রেকর্ড করার বিষয়টি পুলিশের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা