kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

জান্নাতি হত্যা : আদালতের পর থানায় মামলা, আটক ৬

নরসিংদী প্রতিনিধি   

১৭ জুন, ২০১৯ ০২:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জান্নাতি হত্যা : আদালতের পর থানায় মামলা, আটক ৬

জান্নাতি আক্তার

নরসিংদীর হাজিপুরে শ্বশুর-শাশুড়ির মাদক ব্যবসায় রাজি না হওয়ায় গৃহবধূ জান্নাতি আক্তারকে (১৮) পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতের পর এবার থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে নিহত জান্নাতির বাবা শরিফুল ইসলাম খান বাদী হয়ে শাশুড়ি শান্তি বেগমক প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করেছে।

মামলায় এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন, নিহত জান্নাতির শাশুড়ি শান্তি বেগম (৪৫), স্বামী শিপলু ওরফে শিবু (২৩), ননদ ফাল্গুনী বেগম (২০) ও শ্বশুর হুমায়ুন মিয়া (৫০)। তারা সবাই সদর উপজেলার চর হাজিপুরের খাসেরচর গ্রামের বাসিন্দা।

মামলায় আটককৃতরা হলেন, মাদক ব্যবসীয় শান্তি বেগমের বোন সাথী আক্তার, দেবর নওশের মিয়া, খালা পারুল বেগম, খালাতো ভাই টিউলিপ, মামা রতন মিয়া ও খালাত ভাই জাহাঙ্গীর।

মামলার এজাহার ও নিহতের পারিবারের লোকজন জানায়, প্রায় এক বছর আগে নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের শরীফুল ইসলাম খানের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে জান্নাতি আক্তারের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী খাসেরচর গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে শিপলু মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক হয়। কিছুদিন পরই পরিবারের অমতে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। 
বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামীর পরিবারের মাদক ব্যবসার কথা জানতে পারেন জান্নতি। পরে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামী জান্নাতিকে পারিবারিক মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত করতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এতে রাজি না হওয়ায় জান্নাতির ওপর নেমে আসে কঠোর নির্যাতন। একপর্যায়ে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল গভীর রাতে শাশুড়ি শান্তি বেগম, ননদ ফাল্গুনী বেগম ও স্বামী শিপলু মিলে রাতে ঘুমন্ত জান্নাতির শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দগ্ধ হয়ে ছটফট করলেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। 

পরে এলাকাবাসীর চাপে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় জান্নাতির দাদা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম খান থানায় মামলা করতে গেলে গড়িমসি করে পুলিশ। পরে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।

আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। কিন্তু পৌনে দুই মাসেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি পিবিআই। এরই মধ্যে দীর্ঘ ৪০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ৩০ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় জান্নাতির। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পৌনে দুই মাস পার হলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

সর্বশেষ গত শনিবার রাতে জান্নাতিকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত না হওয়ায় পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে শাশুড়ি শান্তি বেগম, স্বামী শিপলু ওরফে শিবু, ননদ ফাল্গুনী বেগম ও শ্বশুর হুমায়ুন মিয়াকে আসামি করে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন জান্নতির বাবা। মামলা দায়েরের পর পরই সন্দেহভাজন হিসেবে ৬ জনকে আটক করে পুলিশ।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, থানায় মামলা দায়েরের পর পরই আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের চিরুনি অভিযান শুরু হয়। তাদের গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব বলা যাচ্ছে না। তবে অচিরেই এজাহার নামীয় আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা