kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

উপাচার্যের দুর্নীতির কারণে দুদককে তথ্য দিচ্ছে চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৭ জুন, ২০১৯ ০০:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপাচার্যের দুর্নীতির কারণে দুদককে তথ্য দিচ্ছে চবি

ছবি: কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে উঠা নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চাহিদা অনুযায়ী তথ্য দিতে কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নুর আহমদের নেতৃত্বে কাজ করছে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি। 

তবে অভিযোগ রয়েছে দুদকের এপ্রিলে আসা চিঠির প্রেক্ষিতে ৩০ মে কমিটি গঠন করলেও রেজিস্ট্রার কমিটিতে রাখা অন্যান্য সদস্যদের বিষয়টি জানিয়েছেন ১০ জুন। অথচ ১৪ জুন উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। উপাচার্যের একবারে মেয়াদের শেষ সময়ে এসে এ কমিটি করার ফলে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টদের অনেকে।

এ কমিটিতে আহবায়ক রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদ ছাড়া বাকী চার সদস্য হলেন- তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোল্যা খালেদ হোসেন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার সামশুল আলম, উপ-হিসাব নিয়ামক শাহ আলম এবং সেকশন অফিসার মুজিবুর রহমান। 

এ বিষয়ে চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কেএম নুর আহমদ  বলেন, অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী এবং আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে উঠা দুটি অভিযোগ অনুসন্ধানে ১০ ধরনের তথ্য চেয়ে এপ্রিলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় দুদক। এসব তথ্য সংগ্রহ এবং দুদককে পাঠাতে ৫ সদস্যের একটি কমিটি কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, কমিটি গঠনের পর আমরা কয়েকটি সভা করেছি। তবে এখনো সব তথ্য সংগ্রহ করতে পারিনি। হয়তো আরও কয়েকটি সভা আমাদের করতে হবে। বেশি সময় নেব না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দুদকের চাহিদা অনুযায়ী সব তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।’

তবে কমিটি কখন করা হয়েছে এবং অন্যান্য সদস্যদের কত তারিখে জানানো হয়েছে বিষয়টি জানতে চাইলে সঠিক তারিখ মনে নেই বলে এড়িয়ে যান রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদ।

গত ১৫ এপ্রিলে দুদক থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানো একটি তাগিদপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের জননেত্রী শেখ হাসিনা হল এবং কলা ও মানববিদ্যা ভবন-২ নির্মাণ প্রকল্পের তথ্য, গত দুই বছরে উপাচার্য হিসেবে বিভিন্ন মিটিং বাবদ অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সিটিং অ্যালাউন্স গ্রহণের তথ্য, ভিসির বাসভবন সংস্কার কাজের তথ্য এবং অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী উপাচার্য থাকাকালীন সময়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের তথ্য চাওয়া হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলামের সই করা এ তাগিদপত্রে একই সঙ্গে সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেনের সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত তথ্য, ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ হত্যা মামলায় কারাভোগের সময় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচে জামিন করা হয়ে থাকলে তার তথ্য, আনোয়ার হোসেনের স্ত্রীকে চবি জাদুঘরের সহকারী কিউরেটর পদে নিয়োগের তথ্যসহ মোট ১০ ধরনের তথ্য চাওয়া হয়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, উপাচার্যের একবারে শেষ সময়ে এসে তাঁদের বিরুদ্ধে উঠা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে কমিটি গঠন করা হয়। অথচ দুদক প্রায় দুই মাস আগে এ ব্যাপারে চিঠি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। এতো দেরীতে কমিটি গঠন করাকে উপাচার্য ইফতেখারের ক্ষমতার অপব্যবহার বলে মনে করছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা