kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

ফলোআপ

দুই বছর পর বাবা দিবসে বাবার কোলে হারিয়ে যাওয়া শিশু রুবেল

মনিরুজ্জামান, নরসিংদী   

১৬ জুন, ২০১৯ ১৯:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই বছর পর বাবা দিবসে বাবার কোলে হারিয়ে যাওয়া শিশু রুবেল

বাবা দিবসের আলাদা কোনো তাৎপর্য আমার কাছে নেই। বছরের প্রতিটি দিনই আমার কাছে বাবা ও মা দিবস। কিন্তু আজকে বাবা দিবসের মানেটা অন্য রকম অনুভূতি টের পেলাম। মা-বাবার কাছ থেকে দুই বছর নিখোঁজ থাকার পর বাবা দিবসে শিশু রুবেল তার বাবা শফিকুল ইসলামকে ফিরে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা। আর বাবা যেন ফিরে পেল তার হারিয়ে যাওয়া সাত রাজার ধন। 

বলছিলাম দুই বছর আগে হারিয়ে যাওয়া নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ওযুরখাই গ্রামের শফিকুল ইসলামের আট বছরের শিশু রুবেল মিয়ার কথা। আজ রবিবার বিকেলে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন মোল্লা ও উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু রুবেলকে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করেন। গত ১২ জুন রাতে রুবেলকে পলাশ উপজেলার জিনারদী রেলওয়ে স্টেশন থেকে খোঁজে পায় পলাশ থানা পুলিশ। পরে কালের কণ্ঠ অনলাইনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রচারিত হওয়ার পর তাঁর খোঁজ পায় বাবা শফিকুল ইসলাম।

পলাশ থানার ওসি মো. মকবুল হোসেন মোল্লা বলেন, গত ১২ জুন রাতে পলাশ থানা পুলিশ টহল ডিউটিতে গেলে রাতে থানা পুলিশ শিশুটিকে পলাশের জিনারদী রেল স্টেশনে কান্নাকাটি করতে দেখতে পায়। পুলিশ সেখান থেকে তাকে থানায় নিয়ে আসে। শিশুটি তার নাম রুবেল, বাবার নাম শফিকুল, মায়ের নাম মর্জিনা ও বাড়ি রংপুর ছাড়া আর কিছুই বলতে পারে নাই। পরে এ বিষয়ে আমরা গণমাধ্যম কর্মীদের সহায়তা কামনা করি। রুবেলের বাবা ১৪ জুন বিভিন্ন অনলাইন, পত্রিকায় সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রুবেলের সন্ধান পেয়ে পলাশ থানায় ফোন করেন। আজ রবিবার বিকেলে তার বাবা শফিকুল ইসলাম শিশু রুবেলের সঙ্গে বাবা-মায়ের ছবি, জন্ম নিবন্ধন কার্ড ও বিভিন্ন প্রমানাদিসহ রুবেলের স্কুলের সভাপতি ও ঐ এলাকার সাবেক মেম্বার মো. আনোয়ার হোসেন সর্দারকে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসলে পলাশ উপজেলার চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ হোসেনের উপস্থিতিতে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শিশু রুবেলের বাবা শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি একজন ভ্যান চালক। শিশু রুবেলই তাদের একমাত্র সন্তান এবং ওযুরখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্র। শিশু রুবেল ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল সকালে স্কুলে যাবার পথে নিখোঁজ হয়। অনেক জায়গায় খোঁজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান পায়নি। রুবেলের শুণ্যতায় তাঁর মা মর্জিনা পাগল প্রায়। গত ১৪ জুন বাড়ির পাশের লোকজন অনলাইন নিউজে রুবেলের নিখোঁজের সংবাদটি দেখতে পেয়ে আমাকে জানালে সঙ্গে সঙ্গে পলাশ থানায় যোগাযোগ করি এবং আজ (রবিবার)আমার সন্তানকে নিতে আসি। এসময় তিনি পলাশ থানা পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা