kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

বাবা দিবসে 'সার্থক বাবা' হয়ে উঠতে চান যমজ চার সন্তানের জনক মোহসিন

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৬ জুন, ২০১৯ ১৮:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাবা দিবসে 'সার্থক বাবা' হয়ে উঠতে চান যমজ চার সন্তানের জনক মোহসিন

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার এই দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর তৃতীয় রবিবার হিসেবে আজ ১৬ জুন পালিত হচ্ছে দিবসটি। বিয়ের আট বছর পর একসঙ্গে চার সন্তানের বাবা হতে পারায় নিজেকে সার্থক বাবা মনে করলেও আর্থিক দৈন্যতার কারণে তাদের লালন-পালনে অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছেন মোহসিন আলী। তবু বাবা হওয়ার পর আজ প্রথম বাবা দিবসে চার সন্তানের সুস্থতা কামনাসহ সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন তিনি।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার থানসিংহপুর গ্রামের মোহসিন আলী ও হাসিনা আক্তার পপি দম্পতি। বিয়ের আট বছরেও কোনো সন্তান না হওয়ায় মানসিক যন্ত্রণাসহ চরম হতাশায় ভুগছিলেন তারা। একটা সন্তানের জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি কত কিৱ-না করেছেন তারা। শেষ পর্যন্ত গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দেন পপি। প্রসববেদনা উঠলে পপিকে রংপুর নগরীর প্রাইম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক লায়লা হাসনা বানু ওই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে ওই গৃহবধূর অস্ত্রোপচার করলে পরপর চার সন্তানের জন্ম হয়। যার মধ্যে রয়েছে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠে 'একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দিলেন পপি' শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

একসঙ্গে চার সন্তান জন্ম নেওয়ার প্রায় ৯ মাস পর সরেজমিনে গাইবান্ধার থানসিংহপুর গ্রামে মোহসিন আলী ও পপি দম্পতির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একই সঙ্গে বড় হচ্ছে চার সন্তান মুসফিকা, মাহমুদুল্লাহ, মাহমুদুল ও মনিষা। কেউ হাসছে, কেউ কাঁদছে, কেউ খাচ্ছে, কেউ-বা কোলে উঠে বাবা-মায়ের আদর নিচ্ছে। যেন অভাবের সংসারেও ঘরকে সারাক্ষণ আলোকিত করে রাখছে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া চার ভাই-বোন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে চার সন্তানকেই সময় দিচ্ছিলেন মোহসিন।

পপির বড় ভাই মোস্তাকিন রহমান শিশির জানান, আট বছর আগে তার বোন পপির সঙ্গে মোহসিনের বিয়ে হয়। মোহসিন ঢাকায় থাকেন। বিয়ের পর এই প্রথম তাদের এক সঙ্গে চার সন্তানের জন্ম হয়। এতে পরিবারের সকলেই খুশি। তবে চার সন্তানের দেখাশোনার জন্য লোক রাখা, খাওয়ানোসহ চিকিৎসা ব্যয় মেটানো স্বল্প আয়ের মোহসিনের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তাদের পেছনে প্রতিমাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

চার সন্তানের মা হাসিনা আক্তার পপি জানান, শত কষ্টের মাঝেও ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছে চার সন্তান। তবে জ্বর, সর্দিসহ যেকোনো অসুখ হলে একসঙ্গে চারজনেরই হয়। সে কারণে তাদের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হারুনুর রশিদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

চার সন্তানের গর্বিত বাবা মোহসিন আলী ঢাকায় একটি প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করতেন। স্বল্প বেতনে আগে কোনো রকমে চলে গেলেও ওই টাকায় সন্তানদের খরচ যোগানো সম্ভব নয়। তাই তিনি ওই চাকরি ছেড়ে বর্তমানে ঢাকায় রেন্ট-এ-কার চালান। তিনি জানান, কষ্ট হলেও মহাজনের গাড়ি চালিয়ে দিন চলে যাচ্ছে। তবে লোন সুবিধায় হলেও নিজের একটা গাড়ি থাকলে চার সন্তানকে মানুষ করতে আর বেগ পেতে হবে না।

দীর্ঘদিন পর হলেও একসঙ্গে চার সন্তানের বাবা হওয়ায় গর্ববোধ করেন মোহসিন। চার সন্তানের আদর্শ বাবা হয়ে যেন থাকতে পারেন- বাবা দিবসে এ জন্য তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা