kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

পাচার হওয়া ছয় কিশোরীকে বাংলাদেশে ফেরত

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৬ জুন, ২০১৯ ১৭:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাচার হওয়া ছয় কিশোরীকে বাংলাদেশে ফেরত

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে পাচার হওয়া ৬ কিশোরীকে আজ দুপুরে বিজিবি বিএসএফের সহযোগিতায় পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ওই কিশোরীদের কেও এক বছর, কেও ৪ বছর আবার কেও থেকে ৭ বছর আগে পাচার হয়েছিলেন। কিশোরীদের বাড়ি খাগরাছড়ি, পটুয়াখালি, নরাইল, বাঘেরহাট, যশোর ও খুলনা জেলায়।  

রবিবার দুপুরে ওই কিশোরীদের ভারতের ফুলবাড়ি হয়ে বাংলাবান্ধা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে আনা হয়। সেখানে ওই কিশোরীদের বাংলাদেশের একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বিজিবি ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনের প্রয়োজনীয় কাজ শেষে তেঁতুলিয়া থানা পুলিশ ওই কিশোরীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানায় পুলিশ। 

জানা যায়, চাকুরিসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীদের ভারতে পাচার করা হয়েছিল। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের লোকজন তাদের কোন খোঁজ পায়নি। এক বছর ভারতের চেন্নাইয়ের একটি বাড়ি থেকে ওই ৬ কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ চেন্নাইয়ের একটি সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে হস্তান্তর করে। পরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের ইমপালস এনজিও নেটওয়ার্ক নামের একটি ইনজিও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ওই কিশোরীদের নাম পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করা হয়। এক বছর চিঠি চালা চালির পর রোববার তাদের ফেরত পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন পরে সন্তানদের ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। 

নরাইলের কিশোরীর মা জানান, ৭ বছর আগে আমার মেয়েকে তার ১২ বছর বয়সে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার করা হয়। দীর্ঘদিন খুঁজেও আমার মেয়ের কোনো খোঁজ পাইনি। আজ আমার মেয়েকে আমি ফিরে পেলাম। কত দিন তাকে দেখি না। আমি বোঝাতে পারবো না আমার কতটা ভালো লাগছে। তবে আমরা চাই পাচার চক্রের সাথে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক।   

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, ওই ৬ কিশোরীকে ভারতের একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিজিবি বিএসএফের সহযোগিতায় হস্তান্তর করে। কিশোরীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা