kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে আত্মহত্যা

ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি    

১৬ জুন, ২০১৯ ১৬:২৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে আত্মহত্যা

ছবি : কালের কণ্ঠ

ডামুড্যা উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে মো.শাহিন বেপারী (৪০) নামে এক হতদরিদ্র মধ্যবয়সী টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে রোগ থেকে মুক্তি পেতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পরিবারের।

শাহিন বেপারী দারুল আমান ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সিরাজ বেপারীর ছেলে। তার ১ ছেলে ও ১ মেয়ে। স্ত্রী ভিক্ষা করে সংসার চালাত। 

রবিবার সকাল ১০টায় উপজেলার গুয়াগোলা নিজ বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করে ডামুড্যা পুলিশ। 

স্থানীয়, পুলিশ ও নিহতের পরিবার বলেন, শাহিন দীর্ঘদিন ধরে আলসারে ভুগছিলেন। দারিদ্র্যের কারণে পরিবার থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। তিনি পেট ব্যথার কারণে মাঝেমধ্যে পাগলের মতো আচরণ করতেন। অসুস্থতার কারণে ও চিকিৎসার অভাবে হতাশা থেকে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

নিহতের স্ত্রী রিনা বেগম জানায়, শনিবার রাতের খাবার খেয়ে ঘরের সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। শাহিন কখন ওঠে ঘরের আড়ার সাথে দড়ি পেঁচ দিয়ে ঝুলে পড়েন তা দেখিনি। সকালে ওঠে তাকে আমি ঝুলে থাকতে দেখি। আমি ভিক্ষা করে সংসার চালাই। মাঝে মধ্যে শাহিন ঝাল মুড়ি বেচ তো। আবার ভিক্ষাও করত।

স্থানীয় হাবির বেপারী, সজিব, কাউছারসহ আরোও অনেকে বলেন, পরিবারের সকলেই ভিক্ষা করে। তা দিয়েই সংসার চালায়। তার স্ত্রী ভিক্ষা করতে করতে অনেক দূরে যায়। শাহিন মাঝে মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ঝালমুড়ি বিক্রি করত। হতদরিদ্র হওয়ায় ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারেননি। সেই হতাশা থেকেই শাহিন মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। গতকালও আমাদের সামনে দিয়ে আসার সময় দেখছি ছটফট করছে। পড়ে যাবে ভাব। আমরা কয়েকবার দোকানে বসতে বলেছিলাম। ওর ১ ছেলে মেয়ে রয়েছে। 

এ ব্যাপারে ডামুড্যা থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, মৃতদেহ উদ্ধার করে হয়েছে। পরিবারের কোন অভিযোগ নেই। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা