kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

সোহেল তাজের ভাগ্নে ‘অপহৃত’ চট্টগ্রাম থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম    

১৬ জুন, ২০১৯ ০৯:৪৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সোহেল তাজের ভাগ্নে ‘অপহৃত’ চট্টগ্রাম থেকে

চট্টগ্রামে ‘অপহরণের’ সাত দিন পরও ইফতেখার আলম সৌরভ নামের এক যুবককে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। কথিত অপহরণের শিকার ওই যুবককে এর আগেও রাষ্ট্রীয় একাধিক সংস্থার লোকজন ‘তুলে নিয়ে’ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সর্বশেষ চাকরি দেওয়ার নাম করে বাসা থেকে ডেকে পাজেরো জিপে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে সৌরভের বাবা সৈয়দ মো. ইদ্রিস আলম অভিযোগ করেছেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজও অভিযোগ করেছেন যে তাঁর ভাগ্নে সৌরভকে অপহরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে তিনি তাঁর নিজের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, এ ‘অপহরণের’ পেছনে কারা আছে তা তিনি জানেন। তাঁর এ স্ট্যাটাসের পরই বিষয়টি জানাজানি হয়।

জানা গেছে, গত ৯ জুন বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানা এলাকার আফমি প্লাজার পাশের সড়কে নীল রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে বলতে সৌরভ একটি পাজেরো জিপে ওঠেন—পুলিশের হাতে আসা একটি ভিডিও ফুটেছে এমনটি দেখা গেছে। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরার এ ভিডিও ফুটেজ পাওয়ার পাশাপাশি পুলিশ যে মোবাইল ফোন থেকে ফোন করে সৌরভকে চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেই মোবাইল ফোনের অবস্থান ঢাকায় শনাক্ত করেছে। আর যে ব্যক্তি ফোন করেছেন তিনি একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থায় কর্মরত বলে পুলিশ জেনেছে। এরপর আর কোনো অগ্রগতি নেই পুলিশের।

ছেলে ‘অপহরণ’ হয়েছে দাবি করলেও সৌরভের বাবা ইদ্রিস আলম ১০ জুন পাঁচলাইশ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (নম্বর ৫২০) করেছেন।

সৌরভকে অপহরণ করার পেছনে একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ীকে দায়ী করেছেন তাঁর বাবা ইদ্রিস আলম। আজাদ আবু সালেহ নামের ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি ব্যবসা করেন ঢাকায়। কেন ওই ব্যবসায়ী আপনার সন্তানের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালাবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ইদ্রিস দাবি করেন, ‘আজাদ সাহেবের মেয়ের সঙ্গে সৌরভের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে মেয়ের অমতে তিনি মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেন। আমরাও সৌরভকে এই মেয়েকে ভুলে যেতে বলি। কিন্তু কিছুদিন পর শুনি মেয়ের বিয়ে ভেঙে গেছে। এরপর থেকেই তিনি সৌরভকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে আসছেন। তারপর ধারাবাহিকভাবে একটির পর একটি সংস্থাকে আমার ছেলের পেছনে লাগিয়ে দিয়েছেন।’ তিনি দাবি করেন, “আমার ছেলেকে একাধিকবার তুলে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। নির্যাতন করেছে। তারা কোনো তথ্য না পেয়ে পরে তাকে ছেড়েও দিয়েছে। এরপর গত ৯ জুন চাকরি দেওয়ার নাম করে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ‘অপহরণ’ করে।”

এবার ‘তুলে’ নেওয়ার পেছনে কারা জড়িত জানতে পেরেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি একটি সংস্থার নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘ওই সংস্থার সদস্যরা আমার গ্রামের বাড়ি চন্দনাইশ ও নগরের বাসায় এসেছিল। পরে জেনেছি, তারাই জড়িত।’ ওই সংস্থা জড়িত হওয়ার কারণ কী হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইদ্রিস আলম দাবি করেন, ‘আজাদ সাহেবের সঙ্গে নাকি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অফিসের যোগাযোগ আছে।’ তিনি বলেন, ‘সৌরভকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমি আজাদ সাহেবের কাছে অনুনয় করে ফোন করেছিলাম। তিনি আমাকে বলেছেন, আপনি তো দুই দিনেই হয়রান হয়েছেন। আমি দুই বছর ধরেই হয়রান হয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজাদ আবু সালেহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি কেন ওদের সন্তানের বিরুদ্ধে লাগতে যাব। আমার কি এত ক্ষমতা আছে নাকি। আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার সন্তানরা কোরআনে হাফেজ। সৌরভের সঙ্গে ফেসবুকে যোগাযোগ হয়ে থাকতে পারে। পরে আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এখন আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ওরা কুৎসা রটাচ্ছে। আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই।’

সৌরভ ‘অপহরণের’ ঘটনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘আমার মামাতো বোনের ছেলে (ভাগ্নে) সৈয়দ ইফতেখার আলম সৌরভকে গত রবিবার ৯ জুন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়েছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের অনুরোধ করছি সৌরভকে ফিরিয়ে দিতে তার পরিবারের কাছে। অন্যথায় আপনাদের পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। ঘটনার আড়ালে কারা আছে তা আমরা জানি।’

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপকালে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ বলেন, ‘একটি তুচ্ছ পারিবারিক ঘটনায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার কে করতে পারে? এত ক্ষমতা কার?’ এ প্রতিবেদকের কাছে এমন প্রশ্ন রেখে তিনি আরো বলেন, ‘আপনি তা অনুসন্ধান করে বের করতে পারেন।’

সৌরভকে উদ্ধারের বিষয়ে অগ্রগতি কতটুকু—জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মো. মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে এখনো উদ্ধার হয়নি।’ গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কি না—জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা