kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

থানায় যুবককে ঝুলিয়ে নির্যাতন, চার পুলিশ সাসপেন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৬ জুন, ২০১৯ ০৮:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



থানায় যুবককে ঝুলিয়ে নির্যাতন, চার পুলিশ সাসপেন্ড

বগুড়া সদর থানা হেফাজতে সোহান বাবু আদর (৩২) নামের এক যুবককে ঝুলিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে পুলিশ সুপারের এক আদেশে তাঁদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জব্বার, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এরশাদ আলী, এএসআই নিয়ামত উল্লাহ ও মুন্সী নামে পরিচিত কনস্টেবল এনামুল হক।

পুলিশের নির্যাতনের শিকার সোহান বাবু আদর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি শহরের সুলতানগঞ্জ পাড়ার সাইদুর রহমানের ছেলে।

নির্যাতনের শিকার আদর ও তাঁর বড় বোন শম্পা সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে থানার কনস্টেবল (মুন্সী) এনামুল হক মোবাইল ফোনে সোহান বাবুকে থানায় আসতে বলেন। থানায় এলে তাঁকে হাজতে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে তাঁর বোন রাতেই থানায় গেলে জানানো হয় একই এলাকার সাথী বেগম তাঁর মেয়েকে ইভ টিজিং ও পাওনা টাকা না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

সোহান বাবু আদর বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত কনস্টেবল এনামুল, এসআই জব্বার এবং নাম জানেন না—এমন একজন তাঁকে কখনো ঝুলিয়ে আবার কখনো হাতকড়া দিয়ে হাত বেঁধে নির্যাতন করেছেন। নির্যাতনের কারণে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শুক্রবার রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর বাবা ও বোনকে থানায় ডেকে আনা হয়। এরপর তাঁদের কাছ থেকে কয়েকটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

শুক্রবার রাতেই সোহান বাবুকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেয় তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁর বোন শম্পা জানান, ঘটনাটি তাঁরা থানার ওসি জানাতে গেলে এসআই জব্বার এবং কনস্টেবল এনামুল ভয়ভীতি দেখান। এ কারণে তাঁরা রাতে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেননি।

বগুড়া সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহান বাবুর সঙ্গে কথা বলেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনের নাম আসায় তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। আরো তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) সনাতন চক্রবর্তীও চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে গিয়ে বাবুর সঙ্গে কথা বলেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা