kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

বন্য হাতি তাড়ানোর বৈদ্যুতিক ফাঁদে আটকে প্রাণ গেল কৃষাণীর

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৫ জুন, ২০১৯ ২০:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্য হাতি তাড়ানোর বৈদ্যুতিক ফাঁদে আটকে প্রাণ গেল কৃষাণীর

বাঁশখালীতে বন্য হাতি তাড়ানোর জন্য ক্ষেতে দেওয়া বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দিলোয়ারা বেগম (৫০) নামের এক কৃষাণীর মৃত্যু হয়েছে। আজ (১৫ জুন) শনিবার সকাল ৮টায় বৈলছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব বৈলছড়ি অভ্যারখীল গ্রামে ওই কৃষাণী বর্গা নেওয়া জমির কাঁকরোল ক্ষেতে কাজ করতে যাবার সময় অন্য এক কৃষকের দেওয়া ফাঁদে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কৃষাণী দেলোয়ারা বেগম স্থানীয় কৃষক সালেহ আহমদের স্ত্রী। তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।

পুলিশ, স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বৈলছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব বৈলছড়ি অভ্যারখীল গ্রামটি পাহাড়ি অঞ্চলে। ওখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। বন্য হাতির তাণ্ডবে এলাকার কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। মাঝে মাঝে কৃষকদের চরম কষ্টে ফলানো ফসল স্থানীয় দুস্কৃতকারীরাও চুরি করে নিয়ে যায়। বন্য হাতির তাণ্ডব ও চোরের উপদ্রব ঠেকাতে স্থানীয় ফরিদ আহমদ ও গোলামুর রহমান তাদের বসতবাড়ির বৈদ্যুতিক মিটার থেকে ২০০ গজ থেকে ৮০০ গজ পর্যন্ত ফসলি জমিতে হাতি তাড়ানোর জন্য বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাততে বেশ কয়েকজন কৃষকের জমিতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেন। দীর্ঘদিন ধরে এই দুজন ব্যক্তি ওইসব কৃষকদের কাছ থেকে মাসিক বৈদ্যুতিক বিলও আদায় করেন। এভাবে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমিতে হাতি তাড়ানোর ফাঁদের নামে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। ওই সব বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত ফসলি জমির পাশেই রয়েছে দিলোয়ারা বেগমের কাঁকরোল ক্ষেত। ওই ক্ষেতের পাশ দিয়ে জনৈক কৃষক নাছির আহমদ তার পেঁপে ক্ষেতে বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদ টাঙিয়ে দেন। আজ শনিবার সকাল ৮টায় দিলোয়ারা বেগম তার বাড়ি থেকে প্রায় কিলোমিটার দূরে কাঁকরোল ক্ষেতে কাজ করতে গেলে ওই ক্ষেতের পাশ দিয়ে নেওয়া নাছির আহমদের টাঙানো ওই বৈদ্যুতিক ফাঁদে আটকে মারা যান। ওই সময় স্থানীয় অন্যান্য কৃষক-কৃষাণীরা বিষয়টি দেখে দ্রুত বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ করে কৃষাণী দেলোয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে বাঁশখালী হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. নাঈম উদ্দিন বলেন, বৈদ্যুতিক ফাঁদে এক কৃষাণী মারা যাবার খবর পেয়ে অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগকারী দুই ব্যক্তির বৈদ্যুতিক মিটার খুলে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বৈলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ফসলি জমিতে বন্য হাতি ও চোরের উপদ্রব ঠেকাতে দেওয়া অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগের ফাঁদে আটকে কৃষাণী দেলোয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। ফসলি জমিতে দিনেদুপুরে বৈদ্যুতিক ফাঁদ দিয়ে রাখা স্থানীয় কৃষকদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা উচিত।

বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কৃষাণী দেলোয়ারা বন্য হাতি ও চোরের উপদ্রব ঠেকাতে দেওয়া বৈদ্যুতিক ফাঁদে আটকে মারা গেছেন। তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছি। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য