kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা, ওসি নকলা প্রত্যাহার

শেরপুর প্রতিনিধি   

১৫ জুন, ২০১৯ ১৯:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা, ওসি নকলা প্রত্যাহার

শেরপুরে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলায় নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। আগামী ১৮ জুন নকলা উপজেলা নির্বাচনের পর তাকে প্রত্যাহার করা হবে বলে জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে একই ঘটনায় নকলা থানার এসআই ওমর ফারুককে প্রত্যাহার করে শেরপুর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নকলা থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওই ঘটনায় জেলা পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম। তিনি ১৫ জুন শনিবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, নকলা থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজকে প্রত্যাহারের আদেশ হয়েছে। তবে আমরা এখনও আদেশের কপি পাইনি। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. বিল্লাল হোসেনও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নকলা থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজকে প্রত্যাহারের আদেশ হয়েছে বলে জেনেছি। তবে এখনও অফিসিয়াল কোনো আদেশ আমরা হাতে পাইনি। 

গত ১০ মে শেরপুরে নকলার কায়দা গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ডলি খানম নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে বর্বরোচিত নির্যাতন এবং ওই নির্যাতনে গৃহবধূর গর্ভের সন্তান বিনষ্টের অভিযোগ ওঠে। নকলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার এক মাস পর গত ১১ জুন নির্যাতনের একটি ভিডিও ভাইরাল হলে তোলপাড় শুরু হয়। পরবর্তীতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে গত ১২ জুন নকলা থানা পুলিশ নির্যাতিতাকে বাদী করে ৯ জনের নামোল্লেখসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা রেকর্ড করে। ওই মামলায় নাসিমা আক্তার (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করলে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আক্কাছ উদ্দিন ভুঁইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ভিকটিম পরিবারের সাথে কথা বলেন। এদিকে, জেলা পুলিশের গঠিত তিন সদস্যেও তদন্ত কমিটিও শুক্রবার পুলিশ সুপারের নিকট তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তদন্তে নকলা থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ এবং এসআই ওমর ফারুকের কর্তব্যে অবহেলা ও গাফলতির বিষয়টি উঠে আসে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা