kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

আধুনিক যুগেও টিকে আছে কাঠের পিঁড়ির সেলুন!

আছাদুজ্জামান খন্দকার, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)   

১৩ জুন, ২০১৯ ১৮:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আধুনিক যুগেও টিকে আছে কাঠের পিঁড়ির সেলুন!

আধুনিক সভ্যতার ক্রম বিবর্তনের ফলে দৈনন্দিন জীবনের সকল ক্ষেত্রেই এসেছে পরিবর্তন। লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। গড়ে ওঠেছে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক সেলুন। এসব সেলুনে চলছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও দাপটের মাঝেও কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এখনও সমানতালে টিকে আছে আবহমান বাংলার সেই চিরচেনা পিঁড়িতে বসা সেলুন। তবে পুঁজি কম থাকায় ভাগ্য বদলায় না ওই সেলুনের কারিগরদের।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় একটি পৌরবাজার ও ৯টি ইউনিয়ন বাজারসহ প্রায় ৫০টি হাট-বাজার রয়েছে। এসব হাট-বাজারের পরিত্যক্ত খোলা জায়গায়, রাস্তার কিনারে, ফুটপাতে ও টিনের তৈরি একচালা ঘরের নিচে বসে বংশ পরম্পরায় পিঁড়িতে বসা সেলুনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন নাপিতরা। বিভিন্ন গ্রাম থেকে দরিদ্র লোকেরা চুল কাটতে এসব সেলুনে আসেন। এসব সেলুনে চুল কাটতে ২০টাকা ও শেভ করতে ১০টাকা লাগে। সারাদিন কাজ শেষে একজন নাপিত পায় দু’শ থেকে দু’শ ৫০টাকা। এই টাকাই চলে তাদের জীবন। এই টাকাই চলে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াসহ যাবতীয় খরচ। বছর শেষে আয় বলতে কিছুই থাকে না তাদের। ফলে একটি আধুনিক সেলুন তৈরি করতে পারছেন না তারা। 

পাকুন্দিয়া পৌরবাজারে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাপড় মহালে টিনের তৈরি একটি এক চালার নিচে আবদুল খালেক ও রবেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস নামে দুইজন নাপিত কাজ করছেন। তাদের পাশেই কাঠের তৈরি একটি পিঁড়ির উপর ছোট গামছায় চুল কাটার ও শেভ করার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি রাখা আছে। আবদুল খালেক একজন ব্যক্তিকে পিঁড়িতে বসিয়ে হাঁটুর কাছে মাথা নিয়ে চুল কাটছেন। রবেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস একজন বৃদ্ধের শেভ করছেন। আর কয়েকজন লোক অপেক্ষায় বসে আছেন। 

শেভ করতে আসা দাওরাইট গ্রামের আবদুল খালেক জানান, আধুনিক সেলুনে শেভ করতে লাগে ৩০টাকা। এই সেলুনে শেভ করতে লাগে ১০টাকা। তাই এখানে এসে শেভ করি। 

বীরপাকুন্দিয়া গ্রামের আইনুল হক বলেন, চেয়ারে বসে চুল কাটলে লাগে ৫০টাকা। আর এখানে লাগে ২০টাকা। আমরা গরীব মানুষ। তাই এখানে ২০টাকা দিয়ে চুল কাটতে আসি। 

নাপিত রবেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমি পিঁড়িতে বসিয়ে ৭০বছর ধরে এ কাজ করছি। প্রথম জীবনে চুল কাটছি চার পয়সা ও দাড়ি কাটছি দুই পয়সা দিয়ে। সে সময় নাপিতদের যা আয় হতো তা দিয়েই সংসার ভালোভাবে চলতো। কিন্তু বর্তমানে ২০টাকায় চুল ও ১০টাকায় দাড়ি কেটেও সারাদিনে যে টাকা পাই, তা দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। 

ছেত্রাখালী গ্রামের নাপিত আবদুল খালেক বলেন, আমি ৫৫ বছর ধরে এ কাজ করছি। বর্তমানে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সব কিছুর পরিবর্তন হয়ে গেছে। চুল ও দাড়ি কাটার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিক সেলুনগুলোতে এখন আর শান দেয়া ক্ষুর নেই। এর বদলে এসেছে ব্লেড। এসেছে শেভিং ক্রিম, ফোম, উন্নতমানের লোশন। যখন আমরা এ কাজ শুরু করেছিলাম তখন এসব ছিল কল্পনার বাইরে। প্রতিদিন যা উপার্জন করি তা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে যায়। আধুনিক সেলুন দেওয়ার মতো এতো টাকা হাতে নেই।  

মন্তব্য