kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ক্লিনিকে নবজাতক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুলকালাম

চিকিৎসক ও পুলিশ লাঞ্ছিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি    

১৩ জুন, ২০১৯ ০২:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্লিনিকে নবজাতক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুলকালাম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের শান্তি মোড়ে অবস্থিত সেবা ক্লিনিকে এক পুলিশ সদস্যের মৃত সন্তান অপারেশনের মাধ্যমে বের করে আনাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। এ সময় পুলিশ ও চিকিৎসকদের মধ্যে তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় এক চিকিৎসক ও এক পুলিশ সদস্য লাঞ্ছিত হন বলে প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান। পরে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাতেই চিকিৎসক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিষয়টির মিমাংসা করেন। 

ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের সিপাহী খাদেমুল ইসলামের সন্তান সম্ভাবা স্ত্রী ইভাকে মঙ্গলবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ওই রোগীর বাচ্চা মারা গেছে বলে তার স্বামীকে জানান। 

এরপর মৃত বাচ্চা সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বের করার জন্য বুধবার বিকেল ৩টার দিকে ওই রোগীকে শহরের সেবা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অজ্ঞানের চিকিৎসক আসতে দেরি হওয়ায় ভর্তির সাড়ে তিন ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অপারেশনের মাধ্যমে মৃত বাচ্চা বের করেন ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. সালমা আক্তার জাহান পলি। 

রাত পৌনে ৮টার দিকে কেন সাড়ে তিন ঘণ্টা দেরিতে অপারেশন করা হলো এই কারণ জানতে ডা. সালমার চেম্বারে যায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এ সময় চিকিৎসক সালমার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত ডা. ইসমাইল হোসেনকে পুলিশ সদস্যরা লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এছাড়া নুর ইসলাম বাবু নামে ক্লিনিকের এক কর্মচারীকেও মারধর করা হয়। একই সময় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশের এক সদস্যের শাটের বোতাম টেনে ছিড়ে ফেলে ক্লিনিকের কর্মীরা। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ডা. ইসমাইল রড নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এর প্রেক্ষিতেই অনাকাঙ্খিত এই ঘটনা ঘটে। 

খবর পেয়ে রাত পৌনে ৯টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। ছুটে আসেন জেলা বিএমএ’র সভাপতি ডা. দুরুল হোদা, সাধারণ সম্পাদক ডা. গোলাম রাব্বানীসহ চিকিৎসক নেতারা। পরে ওই ক্লিনিকেরই একটি রুমে পুলিশ কর্মকর্তা ও চিকিৎসক নেতারা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির মিমাংসা করেন।

বৈঠক শেষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান জানান, সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবোঝি হয়েছিল। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা হয়েছে। কোনো চিকিৎসককে মারধরের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

সেবা ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. সালমা আক্তার জাহান পলি জানান, অজ্ঞানের চিকিৎসক আসতে দেরি করার কারণেই ওই রোগীর অপারেশন দেরিতে হয়েছে। তিনি বলেন, গর্ভবতীর পেটে বাচ্চা মারা যাওয়ার সাত দিন পরেও অপারেশন করে বের করা যায়। এটা কোনো সমস্যা নয়।

লাঞ্ছনার শিকার চিকিৎসক ডা. ইসমাইল হোসেন জানান, কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হন। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. গোলাম রাব্বানী জানান, দুইপক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবোঝির অবসান হয়েছে। 

তবে, সেবা ক্লিনিকের পরিচালক ডা. ময়েজ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কিছু বলতে রাজী হননি।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা