kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

নিজ ঘরে মিলল কিশোরীর মরদেহ

'আমার মা-বাবা কষ্ট দেয়, তারা খারাপ’ বলে খাদিজা তাদের এত বড় কষ্ট দিয়ে গেল!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ জুন, ২০১৯ ০২:১২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'আমার মা-বাবা কষ্ট দেয়, তারা খারাপ’ বলে খাদিজা তাদের এত বড় কষ্ট দিয়ে গেল!

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নিজ ঘর থেকে খাদিজা খাতুন নামে এক কিশোরীর মরদেহ পাওয়া গেছে। তার বাবাকে দায়ী করে ওই ঘরের দেয়ালে লেখা দেখে স্থানীয়রা এই মৃত্যুকে রহস্যজনক মনে করছেন।

শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাটি গ্রামের এই কিশোরীর নাম খাদিজা খাতুন (১২)। হতদরিদ্র দিনমজুর নজরুল ইসলাম তারা বাবা।

স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্রী খাদিজা অনেকদিন থেকে মৃগী রোগে ভুগছিলেন বলে তার স্বজনরা পুলিশকে জানিয়েছে।

শ্যামনগর থানার ওসি মো. হাবিল হোসেন বলেন, বুধবার বিকাল ৪টার দিকে খাদিজাদের ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তিনি বলেন, 'নিজের ঘরের বাঁশের আড়ায় মরদেহটি ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ছিল। শরীরে কোনো ধরনের আঘাত ও ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।'

ঘরের দেয়ালে চক দিয়ে লেখা ছিল- ‘মা-বাবার জন্য/ আমি জীবন দিয়েচি/ এই মা-বাবা কষ্ট দেতিচি/ আমার মা-বাবা খারাপ’।

ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শোকর আলী বলেন, দেয়ালে লেখাটি দেখে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহান ঢালী বলেন, নজরুল অত্যন্ত দরিদ্র দিনমজুর, তার স্ত্রীও দিনমজুর। নজরুল দিনমজুরের কাজে সারাদিন বাইরে ও নজরুলের স্ত্রী হালিমা খাতুন সকাল থেকে বাবার বাড়িতে ছিল। ফলে মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।

'দেয়ালের লেখাটিও খাদিজার কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।'

ওসি বলেন, 'মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে লাশটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে।'

এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য