kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের ডিলাররা চিনি তুলছেন না তিন বছর

বেতন বোনাস ও আখ চাষিদের বকেয়া পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে মিল কর্তৃপক্ষ

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০১৯ ২০:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের ডিলাররা চিনি তুলছেন না তিন বছর

দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ সুগার মিলস্ লিমিটেডে প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা মূল্যের ৩ হাজার ২৮২ দশমিক ২৫ মেঃ টন চিনি মজুদ থাকলেও ডিলাররা চিনি তুলছেন না। 

আমদানিকৃত চিনির থেকে দাম বেশি হওয়ায় ডিলাররা চিনি তুলছেন না বলে জানান।

এদিকে চিনি বিক্রি না হওয়ায় কর্মকর্তা কর্মচারী ও শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতন ও চলতি মাসের বেতন ও বোনাস পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। 

তবে আখ চাষিদের জন্য সু খবর হচ্ছে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে তাদের বকেয়া আখের টাকা পেয়ে যাবেন।

জানা যায়, দিনাজপুর জেলার এক মাত্র ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠা ন বোচাগঞ্জ উপজেলায় সেতাবগঞ্জ সুগার মিলস্ লিমিটেডে ১৬ কোটি ৪১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৩ হাজার ২৮২ দশমিক ২৫ মেঃ টন চিনি মজুদ রয়েছে। কিন্তু বেশি দামের অজুহাতে সুপার মিলের ৪ জন হোল সেল ডিলার ও ৪ জন স্থানীয় ডিলার গত ৩ বছর ধরে চিনি উত্তোলন করছেনা। এ কারণে সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের চিনি অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। প্রায়সই কর্মকর্তা কর্মচারী ও শ্রমিকদের বেতন ও আখ চাষিদের বকেয়া পরিশোধে মিল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এবারো এপ্রিল মাসের বোকেয়া বেতন, মে মাসের বেতন ও ঈদুল ফিতরের বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে আখ চাষিদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে আখ চাষিরা তাদের বকেয়া আখের মূল্য পেয়ে যাবেন।

সুগার মিল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই মিল গেটে চিনি বিক্রয় করছে। খোলা চিনি প্রতি কেজি মূল্য ৫০ টাকা ও প্যাকেট জাতকৃত প্রতি কেজি মূল্য ৬৫ টাকা দরে বিক্রয় করছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চীনের ইয়াংগুনে অবস্থানকারী সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের ডিলার বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোবাইল ফোনে জানান, আমদানীকৃত চিনির থেকে দেশি চিনির মূল্য বেশি। তা ছাড়া চিনি পরিস্কার নয়। তাই বাজারেও চাহিদা নেই। সে কারণে ডিলাররা চিনি উত্তোলন করছেন না।

সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল লতিফের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের মিলে উৎপাদিত চিনির মিষ্টি অনেক বেশি, গুণগত মানও ভালো। কিন্তু লাল হওয়ার কারণে অনেকে চিনি নিতে চান না। কিন্তু তারা জানেন না যে, আমদানিকৃত চিনি রিফাইন করা, রিফাইন করতে মেডিসিন ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু দেশি চিনিতে কোন মেডিসিন নেই। 

তিনি বলেন, ডিলাররা গত ৩ বছর ধরে চিনি উত্তোলন করছেন না। সে কারণে দিন দিন চিনির মজুদ বাড়ছে। চিনিগুলো বিক্রি হলে মিলটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যাবে এবং আখ চাষিদের সঠিক সময়ে আখের মূল্য পরিশোধ করে উৎপাদন বৃদ্ধি করা যাবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোন ক্ষমতা মিল কর্তৃপক্ষের নেই। তাছাড়া ডিলারদের বিরুদ্ধে চিনি উত্তোলন না করলে হেড অফিস টনে ২ শত টাকা জরিমানা করতে পারে। এর বাইরে আমার আর কিছু জানা নেই। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা