kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে চরের কৃষি

আবুল বাশার মিরাজ   

২৬ মে, ২০১৯ ১৬:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে চরের কৃষি

চরে বসবাসরত প্রায় অর্ধকোটি মানুষ প্রতিনিয়তই লড়াই করছে নদীর সাথে। লড়াই করছে নদীর নিষ্ঠুর ভাঙনের সাথে। আরো রয়েছে ঋতু পরিবর্তনের খেলা। এসব ছাপিয়েও চর হচ্ছে কৃষির অপার সম্ভাবনার ক্ষেত্র। আর এখানেই নতুন সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) অন্তর্ভুক্ত চর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (সিডিআরসি)। 

সম্প্রতি ইউটিউবে এমন একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখে উদ্বুদ্ধ হই। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম এটি বাংলাদেশ সরকার ও এসডিসির অর্থায়নে মে ২০১৩ হতে ডিসেম্বর ২০১৯ মেয়াদী একটি বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট কারিগরি সহায়তাধর্মী চলমান প্রকল্প। আর চরের মানুষের উঠে আসার গল্পগুলোই তুলে ধরা হয়েছে প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটিতে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কৃষিবিজ্ঞানী ড. এ কে এম জাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা মো. মহিউদ্দিন মোস্তফা এবং অ্যাডভারটাইজিং কম্পানি ফিল্ম ক্যাসল ওয়াল্ডওয়াইড লিমিটেড।

চরের মানুষের উন্নয়ন নিয়ে সিডিআরসির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. এ কে এম জাকারিয়া বলেন, এই কেন্দ্রটি চরে যারা কাজ করতে চান, চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে যারা স্বপ্ন দেখেন তাদের জন্য একটি উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবং এই প্লাটফর্মে এগিয়ে এসে আমরা চরের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানাই।

খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, 'সমৃদ্ধ চর, উন্নত দেশ' এই স্লোগানকে সামনে রেখে ফুলছড়ি, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর এবং কাজিপুর, সিরাজগঞ্জে ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ইকো পার্কে সিডিআরসি ও মেকিং মার্কেটস ওয়ার্ক ফর দি যমুনা, পদ্মা, এবং তিস্তা চর (এমফোরসি) প্রকল্পের সহযোগিতায় চর কৃষি ও বাণিজ্যমেলাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। চর এলাকায় বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য ও প্রযুক্তিশিল্পের মূলধারার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে চরের বাজারের ব্যাবসায়িক সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরাই ছিল এই মেলার মূল লক্ষ্য। চারটি কৃষি উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মার্চ/১৮- জানুয়ারি/১৯ মাস পর্যন্ত চরাঞ্চলে সর্বমোট ৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা মূল্যের মানসম্মত কৃষি উপকরণ বিক্রি করেছে। তাদের পণ্য বেশি পরিমাণ বিক্রির লক্ষ্যে ২৫ জানুয়ারি, ২০১৮ পর্যন্ত ৩৪১টি কৃষকসভা, ৬৩টি কৃষক প্রচারাভিযান পরিচালনা করে যেখানে মোট ১৬ হাজার ২৩৩ জন কৃষক উপস্থিত ছিলেন। যার মধ্যে ৬৭৫২ জন নারী। তারা গোখাদ্য সরবরহকারী প্রতিষ্ঠান এসিআই গোদরেজ মার্চ/১৮- জানুয়ারি/১৯ মাস পর্যন্ত চরাঞ্চলে ১৫৯০ মেট্রিকটন উন্নতমানের গবাদি পশুর খাদ্য বিক্রয় করেছে। এ ছাড়াও ১০টি ব্যাচ কৃষক প্রশিক্ষণ এবং ১২৭টি কৃষক প্রচারাভিযান পরিচালনা করেছে। যেখানে ১১ হাজার ৭৭৪ জন কৃষক উপস্থিত ছিলেন। যার মধ্যে ৬৮০৯ জন ছিলেন নারী। এ ছাড়া ৫টি গবাদি প্রাণির টিকা প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। যেখানে ৪৩৫টি পরিবারের গবাদি প্রাণিকে টিকা প্রদান করা হয়।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক এবং অতিরিক্ত সচিব মো. আমিনুল ইসলাম চরের উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চরের মানুষের জীবন মান উন্নয়ন, কৃষি ব্যবস্থাকে আরো উন্নতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে বিভিন্ন সেক্টরে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের দিকে নজর দিয়েছেন। আমাদের গবেষণা দল এবং দক্ষ মাঠকর্মীরা চরকে কৃষিবান্ধব করতে, টেকসই বাজার ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। চরাঞ্চলে উৎপাদিত পণ্যের (ভূট্টা, মরিচ, পাট) উৎপাদন ও উৎকর্ষতা সাধনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে উন্নত জাত, উৎপাদনপদ্ধতি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সম্প্রসারণের কাজ করে যাচ্ছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা