kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

বৃদ্ধা মেহেরণ বেওয়ার বিভীষিকা জীবন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০১৯ ১৪:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৃদ্ধা মেহেরণ বেওয়ার বিভীষিকা জীবন

নিত্য অভাব-অনটন, একপেট খাওয়া, জন্মান্ধ-চলৎশক্তিহীন সন্তানকে নিয়ে বৃদ্ধ মেহেরণ বেওয়ার এক বিভীষিকা জীবন। ছবি : কালের কণ্ঠ

নিজের জমি নেই। থাকেন অন্যের জমিতে। জন্মান্ধ আর চলৎশক্তিহীন ছেলে শহিদুলের দেখভালে ব্যস্ত থাকেন। খাওয়া, গোসল, প্রসাব-পায়খানা পরিষ্কারসহ নানা কাজে দিনের বেশির ভাগ সময় চলে যায়। ফাঁকে ফাঁকে ভিক্ষে করে কোনো দিন একবেলা, কোনোদিন দুই বেলা ভাত জোটে। এত কষ্টের পরেও একটি ভিজিডি বা বয়স্ক ভাতা কার্ড মেলেনি ৬৭ বছরের বৃদ্ধা মেহেরণ বেওয়ার। 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের শিবরাম (ফকিরপাড়া) গ্রামে বাড়ি মেহেরণ বেওয়ার। তার জীবনের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে কষ্টের গল্প। প্রায় ৪০ বছর আগে নদী ভাঙনের শিকার হয়ে সারডোব গ্রাম থেকে স্বামী কাছু মামুদকে নিয়ে চলে আসেন সন্ন্যাসী গ্রামে। এরপর ৬ দফা অন্যের জমিতে আবাস গড়েছিলেন, টিকতে পারেননি। সপ্তম দফায় বর্তমান আশ্রয়দাতা ট্যাংরা মামুদের জমিতে বাস করছেন। দুই বছর হলো এখানে বাস করছেন। ৩৮ বছর আগে শহিদুলের জন্ম হয়। দেখেন ছেলে জন্মান্ধ। মেহেরুণের স্বামী কাছু মামুদ দিনমজুরি ছেড়ে একপর্যায়ে ছেলেকে নিয়ে ভিক্ষে করতেন। কিন্তু ছেলের ওজন বেড়ে যাওয়ায় চলাফেরা করতে পারত না। তিন বছর আগে একাই ভিক্ষে করতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হন কাছু মামুদ। এরপর কুড়িগ্রাম শহরের রাস্তায় আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার কিডনি বের করে নেওয়া হয় শরীর থেকে। কয়েকদিন মুত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে পরাজিত হন কাছু মামুদ।

একটি ভাঙা ঘরে ছেলের সাথে থাকেন মেহেরণ। চৌকিতে ছেলেকে তুলে দিয়ে নিজে মাটিতে মাদুর পেতে ঘুমান। শহিদুলের বিয়েও হয়েছিল একসময়। কিন্তু ছেলে ফারুকের জন্মের পর তালাক দিয়ে চলে যায় স্ত্রী। ফারুক ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে অভাবের কারণে লেখাপড়া বাদ দেয়। এখন ৫০ টাকা দিন হাজিরায় একটি দোকানে কাজ করে। 

মেহেরণ জানায়, ছেলে আর নাতিকে নিয়ে তাদের কষ্টের সংসার। ছেলে শহিদুল অস্বাভাবিকভাবে মোটা হয়ে গেছে। হাঁটতে পারে না। বিছানায় প্রস্রাব-পায়খানা করে। আধাকিলোমিটার দূরে অবস্থিত ধরলা নদীতে গিয়ে কাঁথা-বিছানা পরিষ্কার করে আনতে হয় প্রতিদিন। ছেলেকে বিছানা থেকে নামা-ওঠানোর কাজও করতে হয়। করতে হয় খাবারের ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট আয় না থাকায় চেয়ে-চিন্তে কোনোমতে দিন কাবার হয়। ছেলের একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড আছে। মাসে ৫০০ টাকা পান। এই সামান্য টাকায় সংসারের অভাব ঘোচে না। একটি বয়স্ক ভাতা বা ভিজিডি কার্ডের জন্য অনেক ঘুরেছেন। কাজ হয়নি।

মেহেরণ বলেন, মেম্বার খালি কয় কার্ড হইবে হইবে। হয়তো না। সগাই কয়, টাকা ছাড়া কার্ড হবার নয়। হামার জমি নাই, ঘর ভাঙা। আয় নাই। টাকা কোটে পাই। তিনি জানান, জমির মালিক ৩ শতক জমির দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চায়। কিন্তু পেটের খাবার জোগার করতে পারেন না, মাথা গোঁজার জন্য জমি কিনতে পারছে না। 

কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মাহফুজার রহমান বাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিবারটি হতদরিদ্র। তাই মাঝে মাঝে সাহায্য করি। এতদিন বয়স হয়নি বলে বয়স্ক ভাতার কার্ড দিইনি। এখন দেব। 

মন্তব্য