kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

অপহৃত আওয়ামী লীগ নেতার লাশ উদ্ধার, আজ বান্দরবানে হরতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান    

২৬ মে, ২০১৯ ০৮:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপহৃত আওয়ামী লীগ নেতার লাশ উদ্ধার, আজ বান্দরবানে হরতাল

অপহরণের তিন দিন পর গতকাল শনিবার দুপুরে অপহরণের ঘটনাস্থল থেকে ছয়-সাত কিলোমিটার দূরে জঙ্গলাকীর্ণ খাদ থেকে বান্দরবান পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চথোয়াই মং মারমার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে গতকাল বিকেল ৫টায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

ময়নাতদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, চথোয়াই মংয়ের মাথার সামনের দিকে কয়েকটি গুলির দাগ এবং মাথার পেছনে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করার চিহ্ন রয়েছে। তাঁর এক হাত গামছা দিয়ে বাঁধা। পুলিশ ধারণা করছে, অপহরণের রাতেই তাঁকে হত্যা করে পাহাড় থেকে গভীর খাদে ফেলে দেওয়া হয়। 
বান্দরবান সদর থানার ওসি (তদন্ত) এনামুল হক ভূঞা জানান, জর্দান বমপাড়া থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে একটি জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ি খাদে উপুড় হয়ে থাকা অবস্থায় চথোয়াই মংকে পাওয়া গেছে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হোসেন জানান, গতকাল দুপুর ১টার দিকে স্থানীয়রা একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। তাত্ক্ষণিক পুলিশের একটি দল গিয়ে সদর উপজেলার কুহলং ইউনিয়নের জর্দান বমপাড়া থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে একটি জঙ্গল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (পিসিজেএসএস) দায়ী করেছেন বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। চথোয়াই মংকে অপহরণের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। লাশ উদ্ধারের কথা ছড়িয়ে পড়লে সে উত্তেজনা আরো তীব্র হয়। এমন পরিস্থিতিতে শহরের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বান্দরবান পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চথোয়াই মং মারমা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) কেন্দ্রীয় নেতা কে এস মং মারমাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে বান্দরবান সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সন্দেহবশত ওই চারজনকে আটক করা হয়েছে। আটকরা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ (সিএইচটিআরসি) সদস্য কে এস মং, বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ক্য বা মং, জনসংহতি সমিতি নেতা থোয়াই হ্লা মারমা এবং মং হ্লা প্রু হেডম্যান।

অপরদিকে গতকাল সন্ধ্যায় এক জরুরি সভা শেষে বান্দরবান পৌর আওয়ামী লীগ চথোয়াই মং মারমা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ রবিবার জেলায় অর্ধ দিবস হরতালের ডাক দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বান্দরবান সদর উপজেলার উজিপাড়ার নিজ খামারবাড়ি থেকে বান্দরবান পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর চথোয়াই মং মারমাকে (৫০) তুলে নিয়ে যায়। এ সময় খামারবাড়িতে থাকা তাঁর স্ত্রী প্রথমে বাধা ও পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে সন্ত্রাসীরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং চথোয়াই মংকে বাগানসংলগ্ন পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়। ২০১৬ সালের জুনে বান্দরবান সদর উপজেলার জামছড়িপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত হয়েছিলেন বান্দরবান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মংপ্রু মারমা। গত তিন বছরেও তাঁর সন্ধান মেলেনি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা