kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

গোমতী ও ২য় মেঘনা সেতু উদ্বোধনে যাত্রীদের স্বস্তি

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২৫ মে, ২০১৯ ২০:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গোমতী ও ২য় মেঘনা সেতু উদ্বোধনে যাত্রীদের স্বস্তি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২য় মেঘনা ও গোমতী সেতু গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেছেন। আজ শনিবার ঢাকা থেকে কুমিল্লা ১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল অব. সুবিদ আলী ভূঁইয়াসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধির সাথে কথা বলে এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দাউদকান্দি দ্বিতীয় গোমতী সেতুর পাশে উদ্বোধন ফলকে ফিতা কাটেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর মোহাম্মদ আলী সুমন অব., দাউদকান্দি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবু ছালাম চৌধুরী, দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেন বাবু ও কুমিল্লা উত্তর জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি রকিব উদ্দিন প্রমূখ।

এদিকে আজ সরেজমিন দেখা যায় দুটি নতুন সেতু উদ্বোধনের পর মহাসড়কের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। যাত্রীদের মনে স্বত্বি ফিরে এসেছে। এ সড়কে সপ্তাহে ৪/৫ দিন যানজট ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। সেখানে এ সেতু উদ্বোধনের পর সকল ভয় কাটিয়ে শান্তিতে চলাচল করতে পারবে যাত্রীরা। মহাসড়কের চার লেন দিয়ে যাহবাহনগুলো এক লেন হয়ে সেতু পার হওয়ার কারণে প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকতো। বর্তমানে চার লেনের সেতুটি খুলে দেওয়ায় নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। ফলে এ সড়কে আর কোনো যানজটে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।

গ্রীনলাইন পরিবহনের চালক মো. সফিউল্লাহ বলেন, এ চার লেনের সেতু চালু হওয়ার ফলে আমাদের ও যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তির ছায়া নেমে আসছে। আগে এ সড়কে যানজটের কারণে যাত্রীদের সংখ্যা কমে গেছে। তবে এ সেতু দুটি উদ্বোধনের পর যাত্রীর সংখ্যা বাড়বে বলে আমি মনে করছি।

মতলব পরিবহনের যাত্রী মো. আবুল খায়ের বলেন, এ সড়কে যানজটের কারণেই আমরা ঢাকা থেকে অফিস করেছি। বর্তমানে চার লেনের সেতু দুটি চালু হওয়ার বিশেষ করে ঢাকার পাশের জেলার যাত্রীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। যেখানে ঢাকা যেতে ২/৩ ঘণ্টা সময় লাগে সেখানে এখন মাত্র ৪৫ মিনিটে যাওয়া যাবে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, আগে এক লেনের সেতুর কারণে সব সময় যানজট লেগে থাকতো। বর্তমান চার লেনের সেতু চালু হওয়ায় এ সড়কে আর কোনো যানজট থাকবে না।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করার পর পুরাতন দুই লেনের সেতুর পাশে নতুন করে চার লেনের তিনটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। কাঁচপুর, মেঘনা আর গোমতী সেতুর পাশে নতুন এই সেতু তিনিটি নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি। নুতন সেতু নির্মাণ আর পুরাতন সেতুর পুনর্বাসন কাজ শেষ হবার কথা ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর নাগাদ। বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে এই তিনটি ব্রিজ নির্মাণে খরচ হয়েছে ৪,৬৫০ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় ইতোমধ্যে ২০১৯ সালের ১৬ মার্চ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় ২য় কাঁচপুর সেতু আর এবার ২য় ধাপে শনিবার খুলে দেওয়া হয় ২য় মেঘনা ও গোমতী সেতু।

সেতু প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপক রফিউল ইসলাম জানান, এবার এ রুটে ঈদ যাত্রা যানজট মুক্ত হবে। এ সেতুতে আগের মতো প্রতিটি পিয়ারে এক্সপানশন জয়েন্ট না থাকায় সেতু পার হবার সময় অন্যরকম অভিজ্ঞতা লাভ করবে যাত্রীরা। নতুন সেতুর চালু হবার পর শুরু হবে পুরাতন দুই লেন সেতুটির পুনর্বাসনের কাজ। আগামী ডিসেম্বর মাসে পুরাতন সেতুর পুনর্বাসন কাজ শেষ হলে মোট ছয় লেন সেতু ব্যবহার করা যাবে।

প্রকল্পটির প্রকৌশলী শেখ জহির উদ্দিন মাহমুদ জানান, সেতু তিনটি নির্মাণে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে একেবারেই নতুন। উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্পসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে এই সেতু টিকে থাকতে পারবে অন্তত ১০০ বছর।

এদিকে সেতু দুইটি খুলে দেওয়ার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন চালক ও যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ের আগে সেতু দুটির কাজ সমাপ্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ধন্যবাদ জানান তারা। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা