kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

টয়লেটে দুই শিশুর লাশ: মানসিক সমস্যা থেকে দুই মেয়েকে হত্যা করেন বাবা

নরসিংদী প্রতিনিধি   

২৫ মে, ২০১৯ ১৭:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টয়লেটে দুই শিশুর লাশ: মানসিক সমস্যা থেকে দুই মেয়েকে হত্যা করেন বাবা

নরসিংদীতে লঞ্চ টার্মিনালের টয়লেট থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুকে বাবা শফিকুল ইসলাম শ্বাসরোধে করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর নাম নুসরাত জাহান তাইন ও তানিশা তাইয়েবা।

পারিবারের লোকজন ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের ধারনা, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত বাবা শফিকুল ইসলাম পারিবারিক টানাপোড়েন ও আর্থিক সমস্যায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার পূর্ব চালাকচর এলাকার মৃত কাজিম উদ্দিনের ছেলে শফিকুল ইসলামের মানসিক সমস্যা দীর্ঘদিনের। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হওয়ার পর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার লোহাজুরি এলাকার জজ মিয়ার মেয়ে আফিয়া বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তাদের সংসারে দুই মেয়ের জন্ম হয়। তিনি কাজ নেয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে। সম্প্রতি পারিবারিক টানাপোড়েন ও আর্থিক অভাব অনটনে হতাশাগ্রস্থ হয়ে তার পূর্বের মানসিক সমস্যাটি দেখা দেয়।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে মনোহরদীর বাড়ি থেকে দুই মেয়েকে নিয়ে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার দেখাবে বলে বের হন। কিন্তু যথাসময়ে ডাক্তার না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বললে মেয়েরা বায়না ধরে লঞ্চ দেখবে। পরে বিষয়টি স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে জানিয়ে মেয়েদের নিয়ে নরসিংদীর কাউরিয়াপাড়ায় লঞ্চ টার্মিনালে আসেন শফিকুল। টার্মিনালে এসেই বড় মেয়ে তাইন লিচু খাওয়ার বায়না ধরে। কিন্তু তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় মেয়েদের কাছে লজ্জায় পড়ে যান। এই হতাশা থেকে প্রথমে ছোট মেয়েকে টয়লেটে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে একই কায়দায় বড় মেয়েকে হত্যা করে লাশ ফেলে চলে যান শফিকুল। পরে রাত ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

এ সময় নিজের অনুশোচনা থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের কাছে নিজের পরিচয় দেন শফিকুল। বিষয়টি পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে আটক করে পরিবারের লোকজনকে খবর দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ও স্বজনরা এসব তথ্য দেয়।

শফিকুলের ছোট ভাই রাফিকুল ইসলাম বলেন, বিয়ের আগে একবার তার মানসিক সমস্যা চরম আকার ধারণ করেছিল। তখন তাকে ২/৩ মাস আটকে রাখতে হয়েছিল। সম্প্রতি তার আবার সমস্যাটা দেখা দিয়েছে।

নরসিংদী পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পরিবারের লোকজন ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত শফিকুল পারিবারিক টানাপোড়েন ও দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে হতাশা থেকে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। আমাদের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি হত্যার ঘটনা বর্ণনা দেন। আবার পরক্ষণেই তিনি সব ভুলে যান। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা