kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

যাত্রা শুরু করল পঞ্চগড় এক্সপ্রেস

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২৫ মে, ২০১৯ ১৬:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যাত্রা শুরু করল পঞ্চগড় এক্সপ্রেস

পঞ্চগড়-ঢাকা দেশের দীর্ঘতম এ রেলপথে চালু হলো স্বল্প বিরতির 'পঞ্চগড় এক্সপ্রেস'। আজ শনিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে ও পতাকা নেড়ে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরেই পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যায়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে রেলকে ধ্বংস করেছে। অনেক স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা ক্ষমতায় আসার পর রেলকে আলাদা মন্ত্রণালয় করি। আমরা রেলকে আধুনিকায়ন করেছি। এ ছাড়া রেল যোগাযোগকে আরো জনপ্রিয় করতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বড় বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের মাধ্যমে পঞ্চগড়ের মানুষেরা এখন সহজেই ঢাকা যাতায়াত করতে পারবে। তাই রেলকে সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, অক্ষত রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে রেল জনগণের সম্পদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন, পঞ্চগড় ১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান, রেলওয়ের মহাপরিচালক রফিকুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জয়নুল বারী, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহা ব্যবস্থাপক খোন্দকার শহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাটসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। 

ওই ট্রেনে রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পঞ্চগড় এক্সপ্রেস চালু হওয়ায় উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা-পঞ্চগড় রেলপথে প্রথম বারের মতো দ্রুতগতির পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি ৫৯৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিবে ১০ ঘণ্টায়। ট্রেনটি প্রতিদিন ১ টা ১৫ মিনিটে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গিয়ে রাত ১০টায় ৩৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছবে। আবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে পঞ্চগড় পৌঁছবে। যাত্রাপথে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পাবর্তীপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে ট্রেনটি থামবে। ঢাকা থেকে আসার পথেও এসব স্টেশনে থামবে।

এই ট্রেনটিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও ভাড়া একতা ও দ্রুতযানের সমান রাখা হয়েছে। শোভন চেয়ার ৫৫০ টাকা, এসি চেয়ার ১ হাজার ৩৫ টাকা, এসি সিট ১২৬০ টাকা এবং এসি বার্থ ১৮৯২ টাকা। ট্রেনটির ৩০ শতাংশ আসন পঞ্চগড়ের জন্য, ৩০ শতাংশ দিনাজপুর, ২৫ শতাংশ ঠাকুরগাঁও এবং ১৫ শতাংশ পার্বতীপুরের জন্য নির্ধারিত থাকবে। সব মিলে ১২টি কোচ নিয়ে প্রায় এক হাজার যাত্রী পরিবহণ করবে ট্রেনটি। ট্রেনটিতে ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন কোচগুলো যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঢাকা-পঞ্চগড় রেলপথে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো বলে করেন সংশ্লিষ্টরা। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা