kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে বাড়ি ফেরা হবে নির্বিঘ্ন

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৫ মে, ২০১৯ ১৫:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ধরে বাড়ি ফেরা হবে নির্বিঘ্ন

আসন্ন ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ২টি ফ্লাইওভার ও ৪টি আন্ডারপাস যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসগুলো উদ্বোধন করেন। 

সূত্র জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলাসহ ২৬টি জেলার ৯০টি রোডের বিপুলসংখ্যাক যানবাহন চলাচল করে থাকে। দেশের ব্যস্ততম এই মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ২০১৩ সালে দুই লেনের এই মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এরপর ভূমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। চলতি সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। 

তবে সূত্র জানান, প্রকল্পে দুটি সার্ভিস লেন, ২৯টি নতুন ব্রিজ, চারটি ফ্লাইওভার ও ১৪টি আন্ডারপাস সংযুক্ত হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য মাঝে মধ্যে মহাড়কের বিভিন্ন স্থানে যানযটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ঈদ মৌসুমে এই যানজট প্রতি বছরের ঘটনায় পরিণত হয়। ভয়াবহ এই যানজটে আটকা পড়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া রেলক্রসিং এলাকায় যানজটের আটকা পড়ে দুর্ভোগের চিত্র ছিল বর্ণনাতীত। 

তবে মহাসড়কে ধেরুয়া এলাকার ফ্লাইওভার ও সেতুগুলোর কাজ শেষ হলে গত বছর ঈদুল আজহার আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ওই ঈদে যানজটের সেই চিরচেনা চিত্র ছিল না বললেই চলে। সেই থেকে মহাসড়কের চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, হাটুভাঙা রোড, দেওহাটা, মির্জাপুর, কুর্ণী, ধল্যা, পাকুল্যা, নাটিয়াপাড়া, ঘারিন্দাসহ টাঙ্গাইলের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকায় বিগত দিনে বিভিন্ন যে যানজট লেগে থাকত তা এরই মধ্যে অনেকটাই দূর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। 

সূত্র আরো জানান, মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের স্কয়ার এলাকা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার এলাকায় ১১টি আন্ডারপাস এবং ২টি ফ্লাইওভার নির্মিত হচ্ছে। এর মধ্যে মির্জাপুর পাইপাস, দেওহাটা, টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকার আন্ডারপাস এবং গাজীপুরের কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা এলাকার ফ্লাইওভারের কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। 
আসন্ন ঈদে এই মহাসড়ক দিয়ে হাজারো মানুষের ঘরে ফেরা নির্বিঘ্ন করতে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসগুলো উদ্বোধন করেন।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক সাংসদ ফজলুর রহমান খান ফারুক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেন এমপি, গোপালপুর-ভুয়াপুর আসনের তানভীর হাসান ছোট মনি এমপি, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় ছাড়াও জেলার অন্য আসনগুলোর সাংসদ ও বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে টাঙ্গাইলের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল এহসান জানিয়েছেন।

এর মধ্যে কোনাবড়ি ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ১৬৪৫ মিটার, প্রস্থ ১৮.১ মিটার, চন্দ্রা ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ২৮৮ মিটার, প্রস্থ ১৮.১ মিটার। অপরদিকে মির্জাপুর, কালিয়াকৈর ও ঘারিন্দা আন্ডারপাসের দৈর্ঘ্য ৪ শ মিটার প্রস্থ্য ১৮.১ মিটার ও দেওহাটা আন্ডার পাসের দৈর্ঘ্য ২৬০ মিটার ও প্রস্থ ১৮.১ মিটার বলে সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্পের উপপ্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহবুব আলম জানিয়েছেন।

মন্তব্য