kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কীর্তি

খাগড়াছড়ির গাড়ি চট্টগ্রাম পরিচালকের দখলে

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

২৫ মে, ২০১৯ ০৩:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাগড়াছড়ির গাড়ি চট্টগ্রাম পরিচালকের দখলে

দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোর মধ্যে খাগড়াছড়ি একটি। অনগ্রসর এলাকা বিবেচনায় নিয়ে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে এই এলাকার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগকে একটি পাজেরো ধরনের গাড়ি বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু বরাদ্দ দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এক দিনের জন্যও গাড়িটি ব্যবহার করতে পারেননি জেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা বা শিক্ষা অফিস। বরং সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০১৬ সালের জুন মাসে এক ধরনের জোর খাটিয়ে গাড়িটিকে নিয়ে যায় চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও গাড়িটি ফেরত পাঠাচ্ছে না তারা।

জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিচালক থাকাকালে ড. গোলাম ফারুক গাড়িটি নিজে চালানোর জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন। এখন তিনি একই অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তবুও তিনি গাড়িটি ফেরত দিচ্ছেন না। এদিকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগকে গাড়িটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে চিঠি দিয়েছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। এ ছাড়া গাড়িটি ফিরিয়ে আনতে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে।

২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে পাঠানো এক চিঠিতে সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, ‘দুর্গম পাহাড়ি জেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। নিজস্ব গাড়ি ছাড়া এসব বিদ্যালয় তত্ত্বাবধায়ন করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন গাড়িটি ফেরত পাঠানো হয়।’ একই ভাবে গাড়িটি ফেরত চেয়ে চিঠি দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানও। 

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাধন কুমার চাকমা জানান, ‘টিচিং কোয়ালিটি এমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের অধীনে মূলত পার্বত্য জেলায় শিক্ষা কার্যক্রম গতিশীল করা এবং অফিসিয়াল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সরকার খাগড়াছড়ির জন্য গাড়িটি বরাদ্দ দেয়। কিন্তু গাড়ি না থাকায় এখন সরকারি কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। গাড়ি ভাড়া নিয়ে অথবা পাবলিক বাস বা চাঁদের গাড়ি (জিপ) নিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় যেতে হয়। এতে শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম পরিচালক প্রফেসর প্রদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘গাড়িটি খাগড়াছড়ি থেকে আমরা আনিনি। ডিজি অফিস থেকে গুরুত্ব বিবেচনা করে চট্টগ্রাম কার্যালয়কে দিয়েছে। তবে খাগড়াছড়ির জন্য অন্য একটি রিকন্ডিশন গাড়ি দেওয়ার কথা শুনেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা