kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

ঈদের আগেই পানি বাড়ছে পদ্মায়, শঙ্কা থাকলেও তৎপর প্রশাসন

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

২৪ মে, ২০১৯ ১৬:৪২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ঈদের আগেই পানি বাড়ছে পদ্মায়, শঙ্কা থাকলেও তৎপর প্রশাসন

পারাপারে সময় কম লাগায় প্রতিবারের ন্যায় এবার ঈদেও শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুট হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখী যাত্রীদের চাপ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভরা বর্ষা মৌসুম আসন্ন হওয়ায় এ রুটে ঝড়ো আবহাওয়া ও স্রোতের গতিবেগ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

ফলে নাব্যতা সঙ্কটও দেখা দিতে পারে। চলমান লঞ্চ ও স্পীডবোটগুলো জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম ব্যবহারে আগের মতোই উদাসীন থাকায় ঝুঁকি বেড়েছে। পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শঙ্কা আরো বেড়েছে। বিকল্প চ্যানেল তৈরিতে কাজ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ। তবে বাড়ি ফেরা নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। 

সরেজমিন বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএসহ একাধিক সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকার সাথে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুট হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের স্বল্প দূরত্বের কারণে প্রতি বছরই দেশের রেকর্ড সংখ্যক যাত্রীদের ঢল নামে এ রুটে। সেই সাথে যানবাহনের চাপও বাড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুন। আসন্ন ঈদে এ সংখ্যা আরো কয়েকগুন বেড়ে আগের যে কোনো ঈদের চেয়েও ভীড় বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নৌ রুটটিতে ১৮ টি ফেরি, ৮৭ টি লঞ্চ ও প্রায় দুই শতাধিক স্পীডবোট চলায় ও উভয় পাড় থেকে সড়ক পথে অসংখ্য যানবাহন থাকায় রুটটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।  অন্যান্য বারের চেয়ে এবারের প্রস্তুতিও ব্যাপক। থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশ, র‌্যাবসহ বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

তবে ভরা বর্ষা মৌসুম চলায় ঝড়ো আবহাওয়া ও স্রোতের গতিবেগ বেড়ে ভোগান্তি ও ঝুঁকির কারণ হতে পারে। নদীতে স্রোতের সাথে পলি ভেসে এসে বিভিন্ন পয়েন্টে নাব্যতা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই লৌহজং টার্নিং এলাকায় বিকল্প চ্যানেল খননে কাজ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ। বিআইডব্লিউটিসি ইতোমধ্যেই নদীতে ড্রেজার বসিয়ে একটি বিকল্প চ্যানেল তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর সাথে চলমান লঞ্চ, স্পীডবোটগুলো জীবন রক্ষাকারী বয়া, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে উদাসীন হওয়ায় ঝূকি আরো বেড়েছে। লঞ্চ ও স্পীডবোটগুলোতে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম চোখে পড়েনি। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মাঝ পদ্মায় উদ্ধারকারী জাহাজ রাখা ও ঘাটে পর্যাপ্ত সচল ফেরি রাখার দাবী যাত্রী সাধারণের।
 
লঞ্চ যাত্রী হাসান মিয়া বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ঈদের সময় লঞ্চ ও স্পীডবোটগুলোতে অনেক ভীড় হবে। এখন ঝড়ো হাওয়ার সময়।  নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢেউও অনেক। আমরা চাই ঈদের সময় যেন লঞ্চগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা হয়।

বরিশালের যাত্রী সবুজ বেপারী বলেন, আমরা এই রুট দিয়েই চলাচল করি। সামনে ঈদের সময়ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ রুট দিয়েই বাড়ি ফিরবো। এ রুটের স্পীডবোটগুলোতে লাইফ জ্যাকেট থাকলেও তা মানসম্মত নয়। এ লাইফ জ্যাকেট দিয়ে জীবন বাঁচানো সম্ভব নয়। আর লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের তুলনায় বয়া অনেক কম থাকে। ঈদের সময় অন্তত প্রশাসনের এই বিষয়টি দেখা উচিত।
 
কেটাইপ ফেরি ক্যামেলিয়ার মাস্টার শাহাবুদ্দিন বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে স্রোতের গতিবেগও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্রোতের সাথে যদি পলি এসে চ্যানেলের মুখ বন্ধ না হয় তাহলে আসন্ন ঈদে ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে কোনো সমস্যা হবে না।
  
রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর এর মাস্টার আসাদুজ্জামান বলেন, স্পীডবোট চালকদের কোনো প্রশিক্ষণ না থাকলেও স্পীডবোট চালাতে চালাতে তাদের দক্ষতা তৈরি হয়। লাইফ জ্যাকেট সব যাত্রীদের দেওয়া হলেও তা মানসম্মত নয়। ঈদের সময় প্রচুর যাত্রীর চাপ থাকে। নৌযান আইন অনুযায়ী একজন যাত্রীর জন্য ১০ স্কয়ার ফিট জায়গা বরাদ্দ থাকলেও লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের গাদাগাদি করে বোঝাই করে পারাপার করা হয়। লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামও দেখা যায় না।

বিআইডব্লিউটিএ কাঁঠালবাড়ি ঘাট টার্মিনাল ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, আসন্ন ঈদে যাত্রী পারাপারে আমাদের সকল ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। আমাদের প্রতিটি লঞ্চে পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই কোনো লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেওয়া হবে না। কোনো লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করলেও পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম না থাকলে সেই লঞ্চের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ঘাটে দায়ীত্বরত আনসারের সংখ্যা বৃদ্ধি করে সাত দিনের স্থলে যদি ১০ দিন করা হয় তাহলে ভালো হবে।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাট সহকারী ম্যানেজার মো. জসিমউদ্দিন বলেন, আসন্ন ঈদে যাত্রী পারাপারে আমাদের সকল ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যেই সকল ফেরি মেরামত করে সচল রাখা হয়েছে। নতুন ফেরিও যোগ করা হবে। নদীতে নাব্যতা সঙ্কট না দেখা দিলে খুব ভালো ভাবেই যাত্রী পারাপার করা যাবে। 

বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং বিভাগের উপপরিচালক আসগর আলী বলেন, শিমুলীয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌ চ্যানেল এখন পর্যন্ত ভালো আছে। বর্ষার যে সময় নদীতে স্রোত ও ঢেউ বেশি থাকে, পলি বেশি পরিমাণে ভেসে আসে, সেই সময়টাতে যাতে কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমাদের ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে যেহেতু বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে, আর সামনে ঈদ রয়েছে তাই নৌরুটে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নতুন চ্যানেলের কাজ চলছে।
 
মাদারীপুর সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এ বছরও কাঁঠালবাড়ি ঘাটে পর্যাপ্ত আইন শৃংখলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। আমরা লঞ্চ, ফেরি ও স্পীডবোট ঘাট আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করবো। অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ যে কোনো উপায়ে যাত্রী হয়রানি করা হলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা